পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে মঈনউদ্দীনের ছোটভাই খোকন!

273

চুয়াডাঙ্গার খাসপাড়ায় রিপন হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ তিনজন আটক হলেও

তিতুদহ প্রতিনিধি: চুৃয়াডাঙ্গার তিতুদহ ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত রবিবার রাত ১২টার দিকে যুবক রিপনকে হত্যা করা হয়। হত্যাযজ্ঞ চালায় একই গ্রামের মঈনউদ্দীন ও তার বাবা সামসুদ্দীন, ছোট ভাই খোকন এবং বন্ধু সড়াবাড়ীয়া গ্রামের কলাব্যবসায়ী আক্কাস আলীর পুত্র নাজমুল হোসেন। তারা দলগত ভাবে খাসপাড়া গ্রামের সন্তান চট্টগ্রামের মিরসরাই চেকপোষ্টে কর্মরত রিপনকে হত্যা করার পর বাড়ির পাশের ডোবায় জাগ দেয়া পাটের নিচে রেখে দেয়। ঘটনার পর সকালে রিপনের লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করে তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশ। ঘটনার রাতেই খুনি মঈনউদ্দীন বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গেলেও পরিবারের সদস্যরা রাতের আঁধারে বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে অনত্র চলে যাওয়ার সময় গ্রামের সকলের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরা বড় কিছু কান্ড রচনা করে হয়তো বাড়ি থেকে পলায়ন করছে ভেবে তখনি খুনি মঈনউদ্দীনের স্ত্রী মৌসূমী বেগম, ছোট ভাই খোকনের স্ত্রী শান্তা খাতুন ও তার মাকে আটক করে গ্রামবাসী। সকালে ঘটনার সত্যতা মিললে পরিবারের সকল মহিলাসহ মইনুদ্দীনের বাবা সামসুদ্দীনকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। খবর পেয়ে খুনি মঈনউদ্দীন তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই লিটন গাজীর কাছে মোবাইল ফোনে বলে, খুনের পিছনে আমার পরিবারের কোনো দোষ নেই। আমিই তাকে খুন করেছি, ওদের সকলকে ছেড়ে দেন। আমি চুৃয়াডাঙ্গার আন্দুলবাড়ীয়ায় আছি, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। পরে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের একটি টিম সেখান থেকে আটক করে। পরে সাধারণ জিজ্ঞাবাদের পর মহিলা তিনজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার খুনি মঈনুদ্দীনের শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করে গ্রামবাসী। রিপনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপক্ষের মধ্যে অনেকদিন যাবত শত্রুতার রেশ বয়ে আসছিল। তবে তার পরিবার মঈনউদ্দীনের স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বিকার করেছে। তারা আরও জানান, যেখানে রিপন খুন হয় সেই ডোবার মধ্যে মঈনউদ্দীনের মায়ের স্যান্ডেল ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া গেছে। একারণে এই হত্যার সাথে তার মা আছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার হত্যামামলার আসামী সড়াবাড়ীয়া গ্রামের নাজমুল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করলেও মঈনুদ্দীনের ছোট ভাই এখনও পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে আছে। এদিকে, মঈনুদ্দীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে পরিবারের কেউ বাড়িতে নাই। মঈনুদ্দীনের স্ত্রী বাড়িতে তালা লাগিয়ে তার বাপের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীরা সমীকরণকে জানায়, কারাগারে মঈনুদ্দীনকে গ্রামের যারা দেখতে গেছে তাদের কাছেই সে বলেছে, রিপনের বাড়ি আসার বিষয়টি কেউ একজন মোবাইল ফোনে তাকে জানিয়ে দেয়। ফলে খুব সহজে তাকে হত্যা করতে পেরেছে তারা। নিহত রিপনের পরিবারের চাওয়া, হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এক সন্তানের জননী রিপনের স্ত্রী ও তার পরিবারের সকলকে সমবেদন জানানোর জন্য বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।