চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুনরায় রাজনৈতিক সংকটে স্পেন

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কাতালুনিয়া অঞ্চলের স্বাধীনতার আবেগকে রাষ্ট্রীয় সংবিধান দ্বারা দমন করিবার চেষ্টা করিয়া ভুল করিয়া বসিলেন কি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজ্য? সদ্য-অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থি দলগুলির পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বাস্তবতাতে এই প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। অবশ্য এককভাবে অধিক সংখ্যক আসন অর্জনকারী দলটি আবার স্বাধীনতাবিরোধী হইবার কারণে গোটা পরিস্থিতি আরেকবার নূতন করে ঘোলাটে হয়ে উঠতে শুরু করেছে দেশটিতে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে কাতালুনিয়া পার্লামেন্টে স্বাধীনতা ঘোষণার পরেই রাষ্ট্রের তরফ হইতে কাতালুনিয়া পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রের তরফ থেকে নূতন নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় দমননীতির মুখে কাতালুনিয়ার পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুজদেমন গোপনে দেশ ছেড়ে বেলজিয়ামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁর প্রধান সঙ্গী-সাথীদের কয়েকজনকেও কারাবন্দি করা হয়। রাজয়ের সরকার আশা করিয়াছিলেন যে, এই ধরনের চাপের মুখে স্বাধীনতাকামীরা ভেঙ্গে পড়বে এবং কাতালুনিয়ার রাজনীতিতে নূতন অধ্যায়ের সূচনা হবে। নির্বাচনের ফলাফল অবশ্য একেবারে ভিন্ন কথা বলছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাতালুনিয়া পার্লামেন্টের মোট ১৩৫টি আসনের মধ্যে স্বাধীনতাপন্থি তিনটি দল মিলিয়া ৭০টি আসন পেয়েছে। ইহার বিপরীতে স্পেন ইউনিয়নের মধ্যে থাকতে ইচ্ছুক তিনটি দল মিলে পেয়েছে ৫৭টি আসন। এর মধ্যে আবার ইউনিয়নপন্থি কাতালুনিয়াভিত্তিক সিটিজেনস পার্টি এককভাবে ৩৭টি আসন পেয়েছে। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রাজয়ের দল পপুলার পার্টি মাত্র তিনটি আসনে জিততে সক্ষম হয়েছে। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ইউনিয়নপন্থিদের ক্ষেত্রেও জাতীয় দল নয় বরং আঞ্চলিক দলটিই ভোট টানতে সক্ষম হয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা পরিবেশবাদী, বামপন্থি ও আঞ্চলিক কয়েকটি দলের কোয়ালিশন আটটি আসন অর্জনে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করিয়া স্বভাবতই দুইপক্ষের মধ্যে যুক্তির লড়াই শুরু হয়েছে। রাজয়ের মতে নির্বাচনের ফল স্বাধীনতাপন্থিদের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। কেননা স্বাধীনতাপন্থিরা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, এইবারের নির্বাচনে স্বাধীনতাপন্থিরা ৪৮ শতাংশের কিছু কম ভোট পেয়েছে। রাজয় আরো দাবি করেছেন যে, সিটিজেনস পার্টির এককভাবে অধিক আসন অর্জনকে স্পেন ইউনিয়নের প্রতি কাতালুনীয়দের গভীর সমর্থনকেই প্রমাণ করে। এইদিকে স্বাধীনতাপন্থিদের নিয়ে নূতন করে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়াছেন পুজদেমন। তিনি কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা মেনে নেয়ার জন্য আহ্বান জানালেও, রাজয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সংবিধান সমুন্নত রাখবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। লক্ষণীয় যে, উভয় পক্ষ যে ধৈর্য্য ও আইনের প্রতি মান্যতা প্রদর্শন করেছে, উন্নয়নশীল বিশ্বে এটা তেমনটা লক্ষ করা যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতালুনিয়াকে লইয়া স্পেনের রাজনীতি যে গভীর সংকটে পড়িয়াছে তাহা হইতে আশু উত্তরণ সম্ভব নহে। কেননা, স্পেন রাষ্ট্রের ব্যাপারে বীতশ্রদ্ধ বিপুলসংখ্যক কাতালুনীয়ের স্বাধীনতার আবেগ যেমন সত্য, স্বাধীনতার পরিবর্তে ইউনিয়নের মধ্যে থাকিয়া সুযোগ-সুবিধা বাড়াইয়া লইতে চাওয়া কাতালুনীয়বাসীর সংখ্যাও ফেলিয়া দিবার মতো নহে। বস্তুত ইহাই সত্য যে স্বাধীনতাপন্থিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হইলেও ৫২ শতাংশ ভোট তাঁহাদের পক্ষে পড়ে নাই।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।