চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৫ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পি কে হালদার ভারতে গ্রেফতার

নাগরিক সেজে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ : আটক ৬ জন রিমান্ডে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ১৫, ২০২২ ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ফেরারি আলোচিত ব্যাংকার পি কে হালদার গতকাল ভারতে ধরা পড়েছেন। দেশে তার বিরুদ্ধে মামলাকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, তারা পি কে হালদারের ভারতে আটক হওয়ার খবরটি পেয়েছেন। গ্রেফতারের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করার পর পি কে হালদারকে আদালতে তুলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গতকাল দুপুরে পি কে হালদারসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বিডিনিউজ, বাংলা ট্রিবিউন।
পি কে হালদার নামে পরিচিত প্রশান্ত কুমার হালদার বেসরকারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি নামে-বেনামে পিপলস লিজিংসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পালিয়ে যান বলে ২০২০ সালের শুরুতে খবর আসে। এরপর দুদক তদন্তে নেমে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করে। এর মধ্যে একটিতে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়। পি কে হালদার কানাডায় পালিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ছড়ালেও গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তার এবং সহযোগীদের সম্পদের খোঁজে অভিযান শুরু হলে নতুন করে ওঠে আলোচনা। তাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ১০ জায়গায় অভিযানের খবর ওই দিন ভারতের সংবাদমাধ্যমে আসে। দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এ অভিযান চালায় পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাদের সহযোগীদের নামে থাকা বাড়ি ও সম্পত্তিতে। এদের সবাইকে বাংলাদেশী নাগরিক উল্লেখ করে তাদের নামে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি রয়েছে বলে খোঁজ পাওয়ার কথাও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ইডি। এর এক দিন বাদেই গতকাল পি কে হালদারের আটকের খবর এলো। তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও এসেছে সোশাল মিডিয়ায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে পি কে হালদারকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো স্পেসিফিক আইনে সে গ্রেফতার হলে তাকে সেই আইনে গ্রেফতার দেখানো হবে (ভারতে), অথবা আমাদের সাথে ভারতের যে মিউচুয়াল ট্রিটি বা বহিঃসমর্পণ চুক্তি আছে, সেই চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশে সমর্পণ করা হবে।’
তবে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারবেন। আমি ডিটেইল জানি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে ভালো হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘তার গ্রেফতারের বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। যেহেতু এ দেশে তার বিরুদ্ধে মামলা আছে, তাকে আমরা নিয়ে আসব।’ তবে তার আটক হওয়ার কোনো খবর ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি বলে জানান তিনি। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে জানলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাংলাদেশে ফেরত আনার পরের প্রক্রিয়া নিয়ে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ বলেন, ‘সমর্পণ করা হলে তাকে (পি কে হালদার) আদালতে উঠানো হবে। তখন দুদকের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। আদালত আইন অনুযায়ী নিজস্ব যে অর্ডার দেবে, দুদক সেই মোতাবেক কাজ করবে।’ তিনি জানান, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে যে তিন ডজন মামলা আছে, প্রতিটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তিনি বলেন, সে ধরা পড়েছে, এটি আমাদের জন্য বিশেষ সুখবর। কারণ ইনভেস্টিগেশনের জন্য যেসব পেনডিং আছে, সেগুলো অনেক সহজতর হয়ে যাবে এই কারণে যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি সুযোগ তৈরি হলো। এ দিকে পি কে হালদারের সাথে তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা ও তার ভাইও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন বলে খবর এসেছে। ইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানায়, পি কে হালদার ভুয়া তথ্য-পরিচয় এবং ‘রেশন কার্ডে’র মতো জাতীয় কার্ড ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্বও নিয়েছিল শিবশংকর হালদার নামে। ভারতীয় পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন। ইডি পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাদের সহযোগীদের নামে থাকা বাড়ি ও সম্পত্তিতে অভিযান চালায়। সুকুমার মৃধা আগে থেকেই বাংলাদেশে গ্রেফতার রয়েছেন; তিনি পি কে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তার অর্থ দেখভাল করতেন।
বিপুল সম্পত্তির সন্ধান
শুক্রবার ইডি সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের দমদম, ২৪ পরগনাসহ ১০টি এলাকায় অভিযান চালায়। ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসও ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্টের (ইডি) অভিযানের খবর দিয়ে তিনজনের আটকের তথ্য দিয়েছে। যেখানে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার ও প্রাণেশ কুমার হালদারের কথা বলা হয়েছে। প্রীতিশ হালদার পি কে হালদারের আপন ছোট ভাই। ইডি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশান্ত কুমার হালদার পশ্চিমবঙ্গে নিজেকে শিবশংকর হালদার নামে পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তিনি জালিয়াতি করে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড ও আঁধার কার্ড নিয়েছিলেন। তার সহযোগীরাও সেখানে জালিয়াতি করে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯ সালে কানাডায় পালিয়ে গেলেও পি কে হালদার ভারতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্থায়ীভাবে আত্মগোপন করে থাকার জন্যই তিনি জালিয়াতি করে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন; যাতে কেউ তার কোনো খোঁজ না পায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের পর কানাডায় পালিয়ে যান প্রশান্ত কুমার হালদার। দুদক পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান করছেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা অভিযানের বিষয়টি জানতেন। ভারতের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে তাদের তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। কিন্তু কাদের গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এখনো জানানো হয়নি।
ভারতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পাচার
ইডির বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পি কে হালদার তার সহযোগীদের মাধ্যমে ভারতে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পাচার করেছে। পুরো টাকাই হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার অশোকনগরে সম্পত্তি কেনার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ কলকাতার অভিজাত এলাকাতেও বিনিয়োগ করা হয়েছে। অশোকনগরে পি কে হালদারের অন্যতম প্রধান সহযোগী সুকুমার মৃধার নামে চার বিঘা জমির ওপর একটি প্রাসাদোপম বাড়িরও সন্ধান পাওয়া গেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে দুদক গ্রেফতারের পর থেকে তারা এখনো বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পি কে হালদার ও তার পরিবারের সদস্যদের কর আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন সুকুমার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের মালিক সুকুমার মৃধা। সেই সূত্র ধরেই সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাচার করেছেন তিনি। ভারতে সুকুমার মৃধা মাছ ব্যবসায়ী ও একাধিক মাছের ঘেরের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সুকুমার মৃধার মেয়ে জামাতা সঞ্জীব ভারতের সম্পত্তি দেখভাল করতেন। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম বলছে, পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা ভারতে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। যার পুরো অর্থই বাংলাদেশ থেকে পাচার করে নিয়ে যান। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে পি কে হালদার ও তার ভাই প্রীতিশ কুমার হালদার কানাডার পাশাপাশি ভারতেও হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। সেই প্রতিষ্ঠানের সূত্র ধরেই পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা ভারতে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে স্বপন মিত্র নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছেন ইডির কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এই স্বপন মিত্র বাংলাদেশী নাগরিক স্বপন কুমার মিস্ত্রি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট- বিআইএফআইইউর অনুসন্ধানে পি কে হালদারের অর্থ পাচারের সাথে পিরোজপুরের বাসিন্দা স্বপন কুমার মিস্ত্রি ও তার স্ত্রী পূর্ণিমা রানী হালদার, স্বপনের ভাই উত্তম কুমার মিস্ত্রি ও উত্তমের স্ত্রী অতসী মৃধার সম্পৃক্ততা পেয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পি কে হালদারের অর্থপাচারের সাথে জড়িত ঘনিষ্ঠ হিসেবে অন্তত ৭০ জনের একটি তালিকা করেছিল বিআইএফআইইউ ও দুদক। এর মধ্যে অনেকেই ভারতে গিয়ে নামের আংশিক পরিবর্তন করে জালিয়াতি করে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করছেন। এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিআইএফআইইউর একটি সূত্র বলছে, অর্থ পাচারের মাধ্যমে পি কে হালদার ভারতে যে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন, তা কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে এখন তারা চিন্তাভাবনা করছেন। ভারতে তার আরো অনেক সম্পত্তি রয়েছে বলে তাদের ধারণা।
ইডির রিমান্ডে পি কে হালদার
বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার মূল অভিযুক্ত পি কে হালদারকে গতকাল আদালতে তুলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অভিযানে পি কে হালদারসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। এ দিকে এ দিন আদালত ছুটি থাকায় পি কে হালদারসহ অভিযুক্তদের বিশেষ আদালতে তোলা হয়। ইডির আইনজীবী তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নিজেদের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। বিচারক এই মামলায় পাঁচজন পুরুষ আসামির ১৭ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজত ও এক নারী আসামির ১৭ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সরকারি আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মূলত ১০ হাজার কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার, তার ভাই গণেশ হালদারসহ বাংলাদেশের বাসিন্দা স্বপন মৈত্র ও উত্তম মৈত্র, ইমাম হোসেন এবং আমানা সুলতানা ওরফে শর্মি হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার নিয়ে কিছু জানেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, পি কে হালদার ভারতে গ্রেফতার নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানে না। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। কিছু পত্রপত্রিকায় গ্রেফতারের খবর দেখলাম। এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে ভালো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের জানালে যা যা করার দরকার সেটি আমরা করব। পি কে হালদারকে গ্রেফতারের জন্য ভারতকে বাংলাদেশ কোনো অনুরোধ করেছিল কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কে এখনো কিছু জানে না। তিনি বলেন, দুদক এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরে কাজ করছে। আমাদের দেশের অনেক লোক নামে-বেনামে বিদেশে টাকা পাচার করছে। এরা দেশের শত্রু। যারা অর্থ পাচার করছে তাদের ধরে নিয়ে আসা ভালো। গত শুক্রবার ইডি পশ্চিমবঙ্গের দমদম, ২৪ পরগনাসহ ১০টি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তিন বাংলাদেশীর একজন পি কে হালদার বলে নিশ্চিত করেছে ইডি। এ ছাড়া গতকাল ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত মুম্বাই এবং রাজধানী দিল্লিতেও অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী এই সংস্থা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।