চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৮ আগস্ট ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিকনিকের আড়ালে বাল্যবিবাহ, ভেস্তে গেল সব!

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১৮, ২০১৯ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনী ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্ক। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সেখানে একটি বড় প্যান্ডেল করে চলছিল রান্না-বান্না। দেখলে মনে হবে, বনভোজনের আয়োজন। কিন্তু না, স্থানীয় তেঁতুলবাড়ীয়া ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মিনতী খাতুনের বাল্যবিবাহের আয়োজন চলছিল সেখানে। বাড়িতে মেজবানের আয়োজন করলে প্রশাসনের বাধা আসতে পারে, তাই পিকনিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এ বিষয়ে সত্যতা পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বরসহ তিনজনকে আটক করেন। পরে মুচলেকার মাধ্যমে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম রংমহলের সৌদি প্রবাসী মিনারুল ইসলাম মিনুর মেয়ে মিনতী খাতুনের বিয়ে ঠিক হয়েছে পার্শ্ববর্তী রামদেবপুর গ্রামের মালিপাড়ার শওকত আলীর ছেলে আলামিন হোসেনের সঙ্গে। কনের পিতার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানের ধার্য দিন ছিল গতকাল শনিবার। সে মতে আত্মীয়-স্বজন ও বরপক্ষের লোকজন আসার কথা। আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ দিলে প্রশাসনের বাধার মুখে প- হতে পারে, এ আশঙ্কায় বনভোজনের নাটক সাজিয়েছে কনে পক্ষ। এমনটি জানিয়েছেন রংমহল গ্রামের অনেকেই।
ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কে এ আয়োজনে রান্নার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন জানান, ‘বনভোজন না বিয়ের অনুষ্ঠান, তা আমরা জানি না। রংমহল গ্রামের কয়েকজন আমাদের রান্নার কাজে নিয়ে এসেছেন। চার-পাঁচ শ লোকের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়। খাওয়া শুরু হতেই গোপন সংবাদে ছদ্মবেশে পুলিশ নিয়ে হাজির হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুকময় সরকার। প্যান্ডেলের প্রবেশের পথ পুলিশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। খোঁজা করা হয় বরকে, পরে বর আলামিনকে আটক করা হয়। এই সঙ্গে দুজন অভিভাবক খাসমহলের মফিজ ও আরও একজনকে আটক করা হয়। পরে গাংনী উপজেলা ভূমি অফিসে তাঁদের নিয়ে এসে দুই বছরের মধ্যে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হবে না, এ মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছাড়া হয়েছে। তাঁরা আবারও বিয়ের চেষ্টা করলে জেল-জরিমানা করা হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।