চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৭ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পারিবারিক আদালতে মামলায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া যাবে না

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ১৭, ২০২১ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পারিবারিক আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অন্যকে ক্ষমতা অর্পণ করা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারা প্রয়োগ বাধা হবে না, যদিও পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০ ও ১১ ব্যতীত অন্য ধারার প্রয়োগকে বারিত করা আছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম, বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। আদালতে বাদিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো: সাইদুল আলম খান। আর বিবাদি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম খালেদ আহমেদ।

রায়ের পর ব্যারিস্টার মো: সাইদুল আলম খান বলেন, এই মামলার বাদি এক নারী তার আমেরিকা প্রবাসী সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে দেনমোহর ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে মামলা করেন। সে মামলায় বিবাদি তার পক্ষে মামলা লড়াতে এক আত্মীয়কে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। কিন্তু ফ্যামিলি কোর্ট অর্ডিন্যান্স-১৯৮৫ অনুযায়ী পারিবারিক মামলায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেয়ার বিধান নেই বলে সিলেটের পারিবারিক আদালত এই মামলার বিবাদির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ না করে আদেশ দেন। সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবাদি আপিল করলে সিলেটের জেলা জজ আদালত সে আপিল খারিজ করেন। বিচারিক আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একপর্যায়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন আমেরিকা প্রবাসী ওই বিবাদি।

পরবর্তীকালে হাইকোর্ট ওই রিভিশন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। সে শুনানিতে পারিবারিক আদালতের মামলায় দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ও ১১ ধারার বাইরে অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে কিনা সে বিষয়ে হাইকোর্টের সামনে ভিন্ন ভিন্ন রায় পরিলক্ষিত হয়। একপর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করতে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। পরে প্রধান বিচারপতি রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। হাইকোর্টের এই বৃহত্তর বেঞ্চ রিভিশন আবেদনটি শুনানির একপর্যায়ে অভিমত নিতে চারজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, এ এফ হাসান আরিফ, কামালুল আলম ও প্রবীর নিয়োগী এ বিষয়ে আদালতে তাদের অভিমত দেন। এরপর আদালত মঙ্গলবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।