চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৪ আগস্ট ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাঞ্জশির অবরুদ্ধ, বাঘলানের ৩ জেলা পুনরুদ্ধার তালেবানের

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৪, ২০২১ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতকে হস্তক্ষেপ না করতে হেকমতিয়ারের হুঁশিয়ারি; নারী-পুরুষের সমঅধিকার দেয়ার আশ্বাস
সমীকরণ প্রতিবেদন:
গত সপ্তাহে স্থানীয় মিলিশিয়াদের দখলে চলে যাওয়া আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে তালেবান। গতকাল সোমবার তালেবানের একজন মুখপাত্র ওই তিন জেলার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দাবি করেছেন। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখল করার পর পাঞ্জশির উপত্যকায় স্থানীয় মিলিশিয়াদের সমন্বয়ে গঠিত আফগান প্রতিরোধ বাহিনী বাঘলান প্রদেশের তিনটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেলাগুলো হলোÑ বানো, দেহ সালেহ ও পুল-ই-হেসার। খবর : রয়টার্স, দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল, স্কাই নিউজ, পার্স টুডে, পাকিস্তান রেডিও ও সিএনএন।
গতকাল সোমবার তালেবান যোদ্ধারা জেলা তিনটি থেকে প্রতিরোধবাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে বাদাখশান, তাখার ও আন্দারাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। টুইটারে এই দাবি করেছেন তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি লিখেছেন, ইসলামী আমিরাত সমস্যাটির শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিন কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদের সমর্থকরা পাঞ্জশির উপত্যকায় তালেবানবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ২০০১ সালের আগেও কাবুলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই উপত্যকায় তালেবানকে প্রতিরোধ করে শাহ মাসুদের বাহিনী।
এ দিকে গতকাল বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পাঞ্জশির উপত্যকা ঘিরে ফেলেছে তালেবান বাহিনী। তবে তারা যুদ্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা চাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটে জানিয়েছেন, তালেবান যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে উপত্যকাটিকে তিন দিক ঘিরে ফেলেছে। তিনি বলেন, তবে ইসলামী আমিরাত শান্তিপূর্ণভাবে এই ইস্যুর সমাধান চায়। এর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, তাদের শত শত যোদ্ধা পাঞ্জশির যাচ্ছে। রোববার রাতে সেখানে গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
অন্য দিকে আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ বলেছিলেন, তারা তালেবান বাহিনীকে প্রতিরোধ করবেন। সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদও তালেবান বাহিনীকে প্রতিরোধ করার কথা ঘোষণা করেন।
ভারতকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাতে হুঁশিয়ারি: আফগানিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও হিজব-ই-ইসলামীর প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দেশটির উচিত হবে আফগানিস্তানের মাটিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকা। রোববার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় রেডিও পাকিস্তান রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। হেকমতিয়ার বলেন, ভারতের উচিত আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের বদলে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া।
তিনি আরো বলেন, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরে কাশ্মিরিদের সংগ্রামের প্রতিশোধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান মাটি ব্যবহার থেকে ভারতের দূরে থাকা উচিত। আফগানিস্তানে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধ যুদ্ধের অন্যতম এই নেতা বলেন, শত্রুভাবাপন্ন কিছু সংস্থা আফগান জনগণকে উসকানি দিচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পর দেশটিতে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠায় আফগানদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
হেকমতিয়ার আশা করেন, আফগান জনগণের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি নিয়ে কাবুলে শিগগিরই নতুন সরকার গঠিত হবে। এর আগে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে হেকমতিয়ার বলেন, আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণে সরকার গঠন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে নতুন কোনো রক্তপাত বন্ধ করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে বর্তমান সঙ্কট থেকে বের করে আনতে এ ধরনের সরকারই কাজ করতে পারে।
হেকমতিয়ার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রস্তাবিত সরকার আফগানিস্তানের সব জাতিগত জনগোষ্ঠীর সমর্থনে গঠিত হবে। আফগানিস্তানের পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের সমস্যা মীমাংসার জন্য একত্রে বসবে এবং আফগানিস্তানের জন্য এটিই একমাত্র সমাধান। এএফপিকে হেকমতিয়ার বলেন, আফগানরা দীর্ঘ সঙ্ঘাত ও যুদ্ধে ক্লান্ত এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তারা বর্তমানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে চায়। দেশের পুনর্র্নিমাণ ও উন্নতির জন্য তারা সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়।
তালেবান সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক চায়: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক নিয়ে তালেবানের প্রত্যাশার ব্যাপারে মুখ খুলেছেন দলটির মুখপাত্র সুহাইল শাহিন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তালেবান সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক চায়। পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের কথা বলে আসছে। প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়েও কথা বলেন সুহাইল শাহিন। তিনি বলেন, দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সরকার গঠন করা হবে।
তালেবান সরকারে পশতুনদের অংশগ্রহণ থাকবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইসলামী সরকার কোনো জাতিগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে না। আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশসহ আরো কয়েকটি প্রদেশে তাজিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে; ফারিয়া ও সারে পোলের মতো প্রদেশগুলোতে রয়েছে উজবেক জনগোষ্ঠী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে পশতুন জনগোষ্ঠী। তারা সবাই আফগানিস্তানের মানুষ এবং তারা ইসলামী সরকারের অংশ হবে।’
সুহাইল শাহিন জোর দিয়ে বলেন, দেশ পুনর্গঠন ও সরকার পরিচালনায় সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। সবাই যাতে জনগণের সেবা করতে পারে সে জন্য অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করা হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য তালেবানের নেতৃত্ব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাইছেন। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস সম্পর্কে তালেবানের এই মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তানের মাটিতে এদের কোনো ঠাঁই নেই।
কাবুল বিমানবন্দরে গোলাগুলিতে নিহত ১: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর সাথে নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিবিনিময়ে এক নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে বিমানবন্দরের উত্তর গেটে আকস্মিক এই বন্দুকযুদ্ধে আরো তিনজন আহত হয়েছে বলে এক টুইট বার্তায় জানায় জার্মান সামরিক বাহিনী। সংঘর্ষের সময় আফগান নিরাপত্তা রক্ষীদের মার্কিন ও জার্মান সৈন্যরা সহায়তা করেছিল বলে টুইট বার্তায় জানানো হয়।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনে বলা হয়, বিমানবন্দরের বাইরে থেকে এক স্নাইপার আফগান নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ন্যাটোর দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে এবং বিমানবন্দরের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে দেশটি ছাড়তে ইচ্ছুক আফগান ও অন্য বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছেন। বিপুল যাত্রীর ভিড়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে তালেবানের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্দিষ্ট সময়সীমা ৩১ আগস্টের পরও আফগানিস্তানে সেনা উপস্থিতি রাখার পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু তাকে সতর্ক করে তালেবান মুখপাত্র ড. সুহাইল শাহিন বলেছেন, যদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে বিলম্ব ঘটান বাইডেন, তা হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহা থেকে স্কাই নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সুহাইল শাহিন। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সর্বশেষ সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘনিয়ে আসছে। সামনে মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। এ সময়ে কাবুল বিমানবন্দরে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। বিদেশীরা ও আফগানিস্তানের অসংখ্য মানুষ দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার বাইডেনকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বৃদ্ধির আহ্বান জানানোর কথা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। কিন্তু দোহা থেকে ওই সাক্ষাৎকারে ৩১ আগস্টকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সুহাইল শাহিন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা করেছেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে তার সব সেনাকে প্রত্যাহার করে নেবেন। যদি তারা এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেন, তার অর্থ হবে তাদের দখলদারিত্ব বৃদ্ধি করা। এর কোনোই প্রয়োজন নেই। ড. সুহাইল শাহিন বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন উদ্ধার অভিযানের জন্য অতিরিক্ত সময় চায়, তা হলে তার উত্তর হবে ‘না’। অথবা তাদেরকে এর জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে। এটি করা হলে আমাদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হবে। যদি তারা দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে চায়, তা হলে তাতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা। সব কিছু ফেলে মানুষ সেখানে ছুটে যাচ্ছেন দেশ থেকে পালাতে। তারা দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বিমানে ওঠার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সুহাইল শাহিন বলেন, এটি হলো অর্থনৈতিক অভিবাসন। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, মানুষ আর্থিক কারণে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করছে। তালেবান মুখপাত্র ড. সুহাইল শাহিন বলেন, আমি সবাইকে নিশ্চিত করতে চাই যে উদ্বিগ্ন হওয়ার বা ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব মানুষ পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাস করতে চান। এটি এক ধরনের অর্থনৈতিক অভিবাসন। কারণ আফগানিস্তান একটি দরিদ্র দেশ। এখানে শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাই সবাই চান পশ্চিমা দেশগুলোতে পুনর্বাসন হতে এবং একটি উন্নত জীবন গড়তে। এটি ভীতি থেকে নয়।
অভিযোগ আছে, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালেবানরা হুমকি দিচ্ছে। তারা কিছু কিছু প্রদেশে মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন অভিযোগের জবাবে ড. সুহাইল শাহিন বলেন, এসবই মিথ্যা খবর। আমি নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, আমাদের বিরোধীরা এমন সব রিপোর্ট করছে, যার কোনো ভিত্তি বা বাস্তবতা নেই।
সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে তাদের নিরাপত্তার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাতারে। তাদের বেশির ভাগই মেয়ে। আফগানিস্তানে নিজেদের জন্য কঠোর সংগ্রাম করেছেন নারীরা। বিশেষ করে শিক্ষা, ক্যারিয়ার, মৌলিক স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার জন্য। কিন্তু এখন অনেক নারী ও যুবতী ভয়ে আছেন। এমন সব অভিযোগের জবাবে ড. সুহাইল শাহিন বলেন, তারা কিছুই হারাবেন না। যদি তাদের হিজাব না থাকে, তা হলে হিজাব পরতে হবে। নারীরাও পুরুষের সমান অধিকার পাবেন দেশে। তবে তাকে হিজাব পরতে হবে। অনেক শিক্ষিকা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। তারা কিছুই হারাননি। নারী সাংবাদিকরা তাদের কাজ শুরু করেছেন। তালেবানরা যখন দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তখন নারীদের দেখা গেছে টিভির পর্দায়।
মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থান সম্পর্কে সুহাইল শাহিন বলেন, আফগানিস্তানে হাজার হাজার গার্লস স্কুল রয়েছে। সেগুলো চালু আছে। কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না, মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে। নারী শিক্ষকরাও তাদের কাজ শুরু করেছেন। ফলে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রবেশে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই হিজাবের বিধান মানতে হবে।
সেনা রাখার মেয়াদ বাড়াতে আহ্বান জানাবেন বরিস: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে মার্কিন সেনাদের আরো বেশি দিন রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আহ্বান জানাবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান ত্যাগ করবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর নেতারা আজ মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসবেন। বরিস জনসন এ বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং সেনা প্রত্যাহার এখনই না করতে বাইডেনকে আহ্বান জানাবেন। জি-৭-এর এসব নেতার বৈঠক হবে ভার্চুয়ালি। বর্তমানে এ জোটের সভাপতিত্ব করছে ব্রিটেন। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হবে।
‘আত্মসমর্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র’: যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে এবং আফগানিস্তানের নিজের মিত্রদের ত্যাগ করেছে। রোববার সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন অভিযোগ করেছেন জাতিসঙ্ঘে সাবেক মার্কিন দূত নিকি হ্যালি। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, তারা ন্যাটো জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বাগরাম বিমানঘাঁটিতেও আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তালেবানের হাতে সাড়ে আট হাজার কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তুলে দেয়া হয়েছে।
নিকি হ্যালি বলেন, বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার আগেই দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নিয়েছে। তারা আফগান মিত্রদের পরিত্যাগ করেছে, যারা আমার স্বামীর নিরাপত্তা দিয়েছিল। এখানে তালেবানের সাথে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা হয়নি। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ এবং একটি বিব্রতকর ব্যর্থতা।
আফগানিস্তানে তেল রফতানি শুরু ইরানের: আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সশস্ত্র রাজনৈতিক দল তালেবানের অনুরোধে দেশটিতে আবার তেল রফতানি শুরু করেছে ইরান। সোমবার ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসাইনি তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তালেবান ইরানের কাছে আফগানিস্তানে পেট্রোলিয়াম রফতানিতে অব্যাহত রাখতে বার্তা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের তেল রফতানিতে ৭০ ভাগ শুল্ক তালেবানের তুলে নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানে আবার তেল রফতানি শুরু করে দেশটি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।