পাখির প্রাণের মূল্যে আম-লিচু বাগান রক্ষা!

14

প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুরে আম ও লিচু বাগান রক্ষার্থে প্রতিদিন শত শত পাখি নিধনের ঘটনা ঘটেছে। আর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার থানা পাড়াতে। থানা পাড়ার হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীনের আম-লিচু বাগান রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কারেন্ট জাল। আর এই জালের ফাঁদে আটকে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে শত শত দেশীয় পাখি। নির্বিচারে পাখি হত্যার এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে পাখি নিধন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাখি প্রেমিকরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও প্রায় শতাধিক পাখি কারেন্ট জাল থেকে ছাড়িয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। পাখির উপদ্রব এড়াতে বাগানের চারদিকে উঁচু করে কারেন্ট জাল দেওয়ার ফলে জালে আটক পড়ে মারা যাচ্ছে পাখি। বাগানের ওপর দিয়ে পাখি উড়ে যাওয়ার সময় অত্যন্ত স্বচ্ছ এ জালে জড়িয়ে আটকা পড়ছে দোয়েল, শালিক, বাদুর, প্যাঁচাসহ নানা ধরনের দেশীয় পাখি। ফাঁদ থেকে ছুটতে না পেরে এক পর্যায়ে অনাহারে মারা যায় এসব পাখি।
গাংনী থানা পাড়ার আজাহার আলীর ছেলে মহাসিন আলী জানান, পাখির ওপর বাগান মালিকদের এমন নিষ্ঠুর আচরণ অত্যান্ত ন্যাক্কারজনক। এভাবে পাখি নিধন বন্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।
পাখি প্রেমিক সাংবাদিক মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পরাগায়নসহ বনের বিস্তারেও ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এছাড়া পরিবেশের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক জিয়াউল আহসান বলেন, ‘অনেকেই কারেন্ট জাল দিয়ে এভাবে পাখি নিধন করছে, এটি আমাকে পীড়া দেয়; এটিকে আমি ঘৃণা করি। অবশ্যই এটি রোধ হওয়া দরকার এবং সরকারের যে আইন আছে, সেই আইনের প্রয়োগ দরকার। প্রকাশ্যে এমন পাখি নিধন চললেও নীরব স্থানীয় বন বিভাগ।’
বাগান মালিক দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের গাংনী থানা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন জানান, ‘আমি আম-লিচুর বাগানে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে কারেন্ট জাল ব্যবহার করেছি। পাখি মারা যাবে বিষয়টি ভাবতে পারিনি।’
গাংনী উপজেলা বন কর্মকর্তা হামিম হাসান জানান, ‘আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে কুষ্টিয়ায় আছি।’ তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেন। গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, ‘বিষয়টি দেখছি।’