পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সাচ্চু ড্রাইভারকে প্রকাশ্যে গুলি

29

ম্যাগজিনসহ বাকের আটক হলেও উদ্ধার হয়নি পিস্তল : সহযোগীদের ধরতে চলছে পুলিশি অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়ডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে সাচ্চু শেখ (৪০) নামের এক ট্রাক চালককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ সাচ্চু ড্রাইভারকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। গুলিবিদ্ধ ট্রাকচালক সাচ্চু শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাঝেরপাড়ার মৃত আরেফিন শেখের ছেলে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ৬ রাউণ্ড গুলি ও পিস্তলের একটি ম্যাগজিনসহ অভিযুক্ত বাকেরকে আটক করেছে। আটক বাকের (২৮) পৌর এলাকার নূরনগর কলোনিপাড়ার মৃত মুসাহেবের ছেলে।
জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মাঝেরপাড়ার ট্রাকচালক সাচ্চুর সঙ্গে কলোনিপাড়ার মুসাহেবের দুই ছেলে শাকের (৩৫) ও বাকেরের (২৮) বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় সাচ্চুর পেটে পিস্তল দিয়ে একটি গুলি করে পালিয়ে যায় বাকের ও তাঁর সহযোগীরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত সাচ্চু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। সাচ্চুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকেলেই পৌর এলাকার নূরনগরের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ৬ রাউণ্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ বাকেরকে আটক করে। তবে পিস্তলসহ পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত বাকেরের সহযোগীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি গ্যারেজে বসে ছিল ট্রাকচালক সাচ্চু। এসময় হঠাৎ করেই কয়েকজন সেখানে চলে আসে। তাঁদের মধ্যে থেকে একজন একটি পিস্তল বের করে কেউ কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই সাচ্চুকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ সাচ্চুর বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ আহমেদ রবিন বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি বিকেল চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাচ্চু শেখকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তাঁর পেটের বাম পাশে গুলিবিদ্ধের একটি ক্ষতচিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁর পেট থেকে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সাচ্চু শেখ নামের এক ট্রাক চালককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। খবরে পেয়ে সদর থানা পুলিশ নূরনগর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ঘাতক বাকেরকে আটক করে। এসময় তাঁর নিকট থেকে পিস্তলের ৬ রাউণ্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার হলেও পিস্তলসহ পলাতক রয়েছে তাঁর সহযোগী। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি কার মামলা হয়েছে। তবে সাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বাকেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য যুবককেও আটকের চেষ্টা চলছে।’
ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হামলাকারীদের একজন বাকেরকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ম্যাগজিনভর্র্তি ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।’ এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ সাচ্চুর ড্রাইভারের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং সে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে।