চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে কাপড় ব্যবসায়ী

জিম্মি করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ, ৩০ হাজার টাকা আদায়
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

জীবননগর অফিস: জীবননগরে কাপড় ব্যবসায়ী পাওনা টাকা চাইতে যেয়ে বিপাকে। পাওনা টাকা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে অমানসিকভাবে শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গায়ের জামা ও পায়জামা ছিড়ে নিয়ে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জীবননগর পৌরসভার শাপলাকলি পাড়ার মুন্না ও সুজনের বিরুদ্ধে। গত ৩ সেপ্টেম্বর জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের চিহ্নিত সুদে ব্যবসায়ী বুড়ির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

কাপড় ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘মালা নামের একটি মহিলা মাঝে মধ্যে আমার দোকান থেকে কাপড়-চোপড় কিনে নিয়ে যায়। আমার কাছ থেকে এর আগেও বেশ কয়েকবার মালামাল নিয়ে গেছে। তার কাছে আমি ১ হাজার ৭ শ টাকা পাই। আমি পাওনা টাকার জন্য তাকে ফোন দিলে তিনি আমাকে বলেন আপনি আমার বাড়িতে এসে টাকাটা নিয়ে যান। আমি তার বাড়ি চিনি না বললে তিনি আমাকে বলেন আপনি উথলীতে এসে আমাকে ফোন দিলে হবে। আমি আসরের নামাজ পড়ে উথলী যেয়ে ফোন দিলে তার দেওয়া লোকেশন মতো আমি যায়। সেখানে যেয়ে তিনি আমাকে নাস্তা করতে দিয়ে বলেন আপনি একটু বসেন, আমি টাকাটা নিয়ে আসছি। এই কথা বলেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শাপলাকলি পাড়ার মুন্না ও সুজন আসে এবং আমাকে জোর করে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে মারধর করে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি মুন্নার পা চেপে ধরেছি, তারপরও সে আমাকে প্রচুর মারধর করে। এবং আমার গায়ের পানজাবি, পায়জামা ছিড়ে নগ্ন করে ভিডিও করে এবং ছবি তুলে আমার নিকট ১লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে না চাইলে তারা আমার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করবে বলে হুমকি প্রদান করে। আমি কোনো অপরাধ করিনি টাকাও দেব না এ কথা বলতেই তারা আমার মোটরসাইকেল কেড়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাড়ির মালিক বুড়ি আমাকে ঘর থেকে বের করে দিলে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি। পরে আমি জীবননগর থানাতে একটি লিখিত অভিযোগ করলে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে থানা থেকে অভিযোগ না তুললে তোমার ভিডিও ভাইরাল করব। এই হুমকি দেওয়ায় আমি থানা থেকে অভিযোগ তুলতে বাধ্য হয়েছি। পরে মুন্না, সুজনসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার মোটরসাইকেল ফেরত দিবে বলে ডেকে নিয়ে তারা আমার নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তাদের ভয়ে আমি টাকা দিতে বাধ্য ছিলাম, আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্না ও সুজন শাপলাকলি পাড়ায় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে মালাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলা এনে তাদের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বুড়ির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি মালাকে তেমন একটা চিনি না। সে একদিন আমার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য আমার কাছে এসেছিল। আমি তাকে বাড়ি ভাড়া দেব না বলে দিই, পরের দিন সে একটা ছেলেকে আনে পরে দেখি আরো দুটো ছেলে এসে তাকে মারধর করে। আমি তাদের আমার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম।’

এ বিষয়ে মালার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কথা শুনে ফোনটি কেটে দেন। মালার বাবা আব্দুল মালেকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য আমার সব শেষ হয়ে গেছে। তার বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। তার এই কুকর্মের জন্য আমি তাকে ত্যাজ্য করে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে মুন্নার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কারো জিম্মি করে টাকা আদায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, এটা সঠিক না।’ জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘উথলী গ্রামে এক ব্যবসায়ীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। বিষয়টির তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হবে।’

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।