চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাঁচ লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় বিএনপি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২, ২০২২ ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিগত সময়ে জড়ালে সর্বশেষ ইসি গঠন নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেনি বিএনপি। বরাবরের মতো এ ব্যাপারে অনাগ্রহের কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে দলটি। অন্যদিকে নিরীহ গোছের আন্দোলনই করে যাচ্ছে তারা। কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিলেও সরকারের নিষেধাজ্ঞার বাইরে যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মনে প্রশ্ন আসলে কোন পথে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে এগোচ্ছে। এর বাইরে অন্য কোনো পথে হাঁটতে চাইছে না দলটি। নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য বাস্তবায়নে চারটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে দলকে সুসংগঠিত করা, সব রাজনৈতিক দলকে এই দাবির স্বপক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা, আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করা, আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়।


সূত্র মতে, আন্দোলনে বিগত সময়ের মতো আর ব্যর্থ হতে চায় না বিএনপি। আন্দোলন সফলে তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার বিষয়টি। এ লক্ষ্যে আসন্ন মার্চ মাসের মধ্যে দল পুনর্গঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা। এদিকে দলের শীর্ষ নেতার কঠোর অবস্থানে নড়েচড়ে বসেছেন দায়িত্বশীল নেতারা। সারাদেশের জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। তৃণমূল থেকে দলকে শক্তিশালী করতে পুনর্গঠনেই মনোযোগ বেশি বিএনপির। করোনাকালীন পর থেকে সারাদেশের জেলা কমিটি গঠন শুরু করেছেন দলের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জেলা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। বাকিগুলোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অনেক কমিটি গঠনের কার্যক্রমও চলছে। দ্রম্নত সময়ের মধ্যে বাকি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে ভেঙে দেওয়া হবে।
দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক নেতা জানান, এবার আর কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এ জন্য এখন পর্যন্ত সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবির আন্দোলনও কৌশলগত কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে করা হচ্ছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা মাফিক কর্মসূচি দেওয়া হবে। তখন আর কোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে আন্দোলন হবে না। আসন্ন আন্দোলনের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আগ্রহী নয়। আগ্রহী শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার। কারণ নিরপেক্ষ সরকার না হলে এই দেশে কোনোদিন সুষ্ঠু হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরপেক্ষ সরকার না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে।


বিএনপি সূত্র মতে, আন্দোলন সফলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সাংগঠনিক ভিত শক্ত এমন সক্রিয় ডান-বাম-ইসলামী দল এবং সংগঠনগুলোকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একসূত্রে গাঁথার কৌশল নিয়েছে দলটি। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের একদফার দাবির স্বপক্ষে একটি রূপরেখা দেবে তারা। আলোচনায় ঐকমত্যে আসা দলগুলো ওই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করবে। এরপর সব দল একমঞ্চে এসে বৃহৎ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে। এই মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে বিএনপি নেতারা। অনেকে বিএনপির সঙ্গে থাকা ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেক দল নিরপেক্ষ সরকারের পাশাপশি জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপিকে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের জন্য অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হবে। আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে ঐক্য হবে তা বেরিয়ে আসবে।


বিএনপি সূত্র মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলন সফল সম্ভব হবে না এমন বিবেচনায় এখন এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে বিএনপি। জনগণকে রাজপথে নামাতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির দাবিতে দেশব্যাপী ১১ দিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। পরবর্তীতে জনস্বার্থের সব ইস্যুতে আরও কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের একদফা দাবি আদায়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে কাজ করছে দলের কূটনৈতিক পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও।


ইসি গঠনে নিশ্চুপ থাকার পর বিএনপি এখন কী করবে জানতে চাইলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথা নেই তা বারবার বলা হয়েছে। দলের দাবি একটাই- তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনকালীন আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। এ জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সেই আন্দোলন চলছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।