চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৮ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্রের সাফল্য

সারাদেশে মেধা তালিকায় ৫২ ও ৬১তম স্থান অর্জন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৮, ২০২২ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র বাংলাদেশ কাওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৪৫তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা-২০২২ ইবতিদাইয়্যাহ (পঞ্চম শ্রেণি) অংশগ্রহণ করে সাফল্য দেখিয়েছে। সারা দেশের মধ্যে সেরাদের তালিকায় দুই ছাত্র ৫২ ও ৬১তম স্থান অর্জন করেছেন। পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রার ওই দুই ছাত্র হলো- ৫২তম স্থান অর্জনকারী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চরপ্রাগপুর গ্রামের সাবের আলীর ছেলে তাহারুল হক ও ৬১তম স্থান অর্জনকারী আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ নতিডাঙ্গা গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে নাফিজ ইকবাল।

জানা যায়, বাংলাদেশ কাওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৪৫তম ইবতিদাইয়্যাহ-২০২২ অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার ১৩ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। গত ৯ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ জুন ৪৫তম পরীক্ষার ফলাফল হাতে পায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ১৩ জন ছাত্রের মধ্যে মোট সাতজন কৃতীত্বের সঙ্গে মুমতাজ (এ+) নিয়ে কৃতকার্য হয়। এর মধ্যে সারা দেশের মেধা তালিকায় ৫২ ও ৬১তম স্থান অর্জন করে নেয় দুই ছাত্র তাহারুল হক ও নাফিজ ইকবাল।

এদিকে, সারা দেশের মধ্যে সেরা সাফল্য অর্জন করায় মাদ্রাসার দুই কৃতী শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসাটির পরিচালক বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর প্রেসিডেন্ট, সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি, সাহিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান, হোটেল সাহিদ প্যালেস অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শামীম ও মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব হাফেজ ইনারুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, একটি সুন্দর দ্বীনি-শিক্ষার ভাবনা নিয়ে মৃত হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাস ২০০১ সালে মাত্র ১৩ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিয়ে একটি চালা-ঘরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে ‘পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামে দ্বীনি-শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের মৃত্যুর পর এই মাদ্রাসাটির পরিচালকের দায়িত্ব নেন তাঁর পুত্র চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ও দানবীর হিসেবে খ্যাত আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। একজন সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে পিতার সুস্বপ্নকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মেধা ও শ্রম দিয়ে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মাদ্রাসাটিতে ছাত্রদের জন্য লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে তিন বেলা মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। বহুল ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিননন্দন পাঁচতলা একাডেমিক ভবন। এই ভবনে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও আবাসনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলামেলা ও মনোরম পরিবেশে দৃশ্যমান এ মাদ্রাসাটির সুবিশাল খেলার মাঠসহ লাল সিরামিক ইট ও নান্দনিক ব্লকের গাঁথুনী নজর কাড়বে সবার। পাঠদান, থাকা ও খাওয়ার সুযোগ সুবিধাসহ আধুনিক এই মাদ্রাসাটি ইতঃমধ্যেই সমাদৃত হচ্ছে সারা দেশব্যাপী।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।