চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৭ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পশুর হাট, পর্যটনকেন্দ্র, প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ ঘোষণা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৭, ২০২১ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১১ জুন থেকে আবারো দেশে ফিরবেন ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। এজন্য জেলার সব ক’টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া দামুড়হুা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ওই এলাকার সকল পশুহাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসাথে সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদারসহ সংক্রমিত এলাকায় করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সম্প্রতি দামুড়হুার সীমান্ত এলাকায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু হার বেড়েছে। এজন্য উপজেলার ডুগডুগি ও নাটুদহ পশুহাটগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে দামুড়হুা উপজেলার সকল পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমিত এলাকার চায়ের দোকান পুরোপুরিভাবে বন্ধ রাখার জন্যও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। আংশিক লকডাউনে নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ওইসব গ্রামের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চুল কারাখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসাথে সীমান্ত এলাকা বিজিবি টহল জোরদারের জন্যও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আবারও বাংলাদেশিদের ফেরা নিয়ে জেলা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, গত ১৭ মে থেকে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা দর্শনা জয়নগর সীমান্ত দিয়ে দেশে আসতে শুরু করেন। তাঁদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ আশপাশের জেলায় তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশিদের আগমন। নতুন করে এনওসি প্রদান না করায় আটকে পড়ারা আসতে পারছে না। তবে আগামী ১০ জুন থেকে আবারও নতুন করে তাদের এনওসি দেওয়া শুরু হবে। সে হিসেবে ১১ জুন থেকে আবারও জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে দেশে আসবে বাংলাদেশিরা। এজন্য তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে জেলার সকল কোয়ারেন্টিন সেন্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিভিন্ন সময় ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে আসার সময় বিজিবির হাতে আটক হচ্ছে। এরপর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে তারা জেলহাজতে চলে যাচ্ছে। এখন থেকে এমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকেও কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। ১৪ দিন পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে নেওয়া হবে। এছাড়া এসময় জেলার সবধরনের প্রাইভেট কোচিং বন্ধ রাখারও ঘোষণা দেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডল, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান, জীববনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুনিম লিংকন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেগম ইসরাত জাহান, সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।