চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবর্তন ঘটে কি না সেটিই দেখার

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৫, ২০২০ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

গোটা বিশ্বের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে। কে হতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছেন নাকি পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের জো বাইডেন নির্বাচিত হচ্ছেন সেটিই সবার মূল আগ্রহের কেন্দ্র। গত মঙ্গলবার নির্বাচনের পর ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল আসতেও শুরু করেছে। সেই সাথে ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস দিচ্ছে মার্কিন গণমাধ্যম। তাতে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগের প্রায় সব জরিপেই বাইডেন বেশ এগিয়ে ছিলেন; কিন্তু ভোট গ্রহণের ঠিক আগের মুহূর্তে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হন ট্রাম্প। তারপরও গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত পাল্লা ভারী ছিল জো বাইডেনের দিকেই। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে বিলম্ব হবে। তবে বেসরকারি ফলাফল সম্ভবত বুধবার রাতের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এবারের নির্বাচন আমেরিকার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। গত চার বছরে ক্ষমতায় থেকে ট্রাম্প গোটা বিশ্বকে যেভাবে পাল্টে দিয়েছেন সেটি কেবল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; খোদ আমেরিকার সমাজ ও রাজনীতিকেও তা প্রভাবিত করেছে এবং সেই প্রভাব ইতিবাচক নয়। সে জন্যই এবারের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্লেষকরা সহিংসতার সম্ভাব্য কারণ, ব্যাপ্তি ও পরিণাম ইত্যাদি বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে শুরু করেছেন।
বিশ্বজুড়ে ২৫ বছর ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এবারের নির্বাচনে বিদ্বেষমূলক বা ঘৃণাবাচক বক্তব্য ও ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়, যা আগের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি, আছে বর্ণবাদী উত্তেজনা। নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একপক্ষের বা উভয় পক্ষের অবিশ্বাস; বিভাজন কমানোর বদলে উসকে দেয় এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে রয়েছে আইনি বিবাদের সম্ভাবনা। এ ছাড়াও এমন সব বিষয় এবার সামনে এসেছে যেগুলো কেবল আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নির্বাচনেই এ যাবৎ দেখা যেত। মার্কিন নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতার যে অনন্য সৌন্দর্য আমরা দেখে এসেছি তাতে ধস নামানোর কৃতিত্ব বিশ্লেষকরা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়ে পড়েছে যে, নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতার ভয়ে খোদ হোয়াইট হাউজের চার পাশে অলঙ্ঘনীয় লোহার বেড়া তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্প যদি নির্বাচনে হেরে গিয়েও হোয়াইট হাউজ ছাড়তে না চান তাহলে তাকে সেখান থেকে বলপ্রয়োগে কিভাবে বের করে দেয়া যাবে সেসব বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগান দিয়ে ট্রাম্প আসলে আমেরিকার মহত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন।
যাই হোক, আমাদের জন্যও নানা কারণে আমেরিকার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় সব দেশের মতোই আমাদের কাছেও আমেরিকা স্বপ্নের দেশ। অভিবাসনের জন্য আমাদের নাগরিকদেরও প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে আমেরিকা। আমাদের তৈরী পোশাক তথা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশটি। আমাদের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে ওই দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার। সে জন্য তাদের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি জরুরি। এসব ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নীতি আমাদের অনুকূলে নয়। বিশেষ করে অভিবাসন, স্টুডেন্ট ভিসা, জিএসপি সুবিধাÑ এগুলো অবাধ থাকেনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমেরিকা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি বিশেষ করে চীনের বিরোধিতায় ভারতকে বরকন্দাজ হিসেবে ব্যবহারের নীতির তপ্ত হাওয়া সরাসরি আমাদের গায়ে এসে লাগে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা আমাদের কম নয়। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আমাদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিকে স্পর্শ করে। মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি আমাদের মর্মাহত করে। সব মিলিয়ে মার্কিন নির্বাচন আমাদের জন্য শুধু যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এমন নয়। বর্তমান ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা বিশ্বব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো সুস্থ চিন্তা, সত্য, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহাবস্থান ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ। ট্রাম্পের আমলে সেটি অটুট থাকেনি। তিনি বিশ্বব্যাপী উগ্রতা ও বর্ণবাদ উসকে দিয়েছেন। ন্যায়বিচারের নীতি বিসর্জন দিয়েছেন। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্বেবাসীর জন্য মঙ্গলজনক নয়; কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার শুধুই মার্কিন ভোটারদের। তারা ট্রাম্পকেই ক্ষমতায় রাখবেন নাকি পরিবর্তনের পথ বেছে নেবেন সেটি দেখার জন্যই আমদের সাগ্রহ অপেক্ষা।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।