চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১১ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পথচারীকে মেরে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ১১, ২০২২ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সামনে গতকাল গুলির ঘটনা ঘটেছে। হাইকমিশনের বাইরে কলকাতা পুলিশের একটি চেকপোস্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য গুলি চালিয়ে এক পথচারীকে মেরেছেন। বেপরোয়া গুলিতে পথচারীর মৃত্যুর পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন সেই ভারতীয় পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও একাধিক ব্যক্তি। ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই পুলিশ সদস্য। কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন বলেছেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে উপ-হাইকমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কালিম্পংয়ের বাসিন্দা চৌধুরী লেপচা নামে ওই পুলিশ সদস্য এক বছর আগে কলকাতা পুলিশের পঞ্চম ব্যাটালিয়নে নিয়োগ পান। কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে গতকালই কাজে যোগ দেন তিনি। দায়িত্বরত অবস্থায় গতকাল দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ করেই চা পানের কথা বলে তিনি বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের আউট পোস্ট থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপরই ওই আউটপোস্ট থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরত্বে লোয়ার রেঞ্জ এলাকায় বন্দুক উঁচিয়ে বিভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় এক সহকর্মীর বাসার খোঁজ করতে থাকেন তিনি। তার দাবি ওই সহকর্মীকে  সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল।

যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে জানান, ওই নামে কোনো পুলিশ সদস্য সেখানে থাকেন না। এর পরই উদভ্রান্তের মতো নিজের রাইফেল থেকে এদিক-ওদিক নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকেন। আতঙ্কে আশপাশের লোকজন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। একসময় তার ছোড়া গুলিতেই নিহত হয় অ্যাপ নির্ভর মোটরবাইকের এক নারী যাত্রী। হাওড়ার দাসনগরের বাসিন্দা নিহত ওই নারী রিমা সিংহ পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। গুলিতে আহত হয়েছেন মোটরবাইকের চালক মোহাম্মদ বশির আলম। গুলিটি তার পিঠে লাগে। ওই অবস্থাতেই তিনি ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তার বাইকটিকে আটকায়। এরপর দেখা যায়, তার পিঠ থেকে রক্ত ঝরছে। এরপরই ঘটনা সামনে আসে ও সেই সঙ্গে ওই আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়া গুলিতে আহত হয় মোহাম্মদ সরফরাজসহ আরেক ব্যক্তি। তাকেও চিকিৎসার জন্য প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে শেঠ শুখলাল কারনানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে তাদের স্থানান্তরিত করা হয়। গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি গাড়িও। এরপর হঠাৎ করেই ওই পুলিশকর্মী তার গলায় নিজের রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ তার লাশ ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে। লাশের পাশেই পড়ে থাকে তার রাইফেলটিও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালায় ওই পুলিশ সদস্য। কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল জানান, ‘নিহত ওই পুলিশ সদস্য সম্ভবত বছরখানেক আগে কলকাতা পুলিশে চাকরি পেয়েছিলেন। ছুটি থেকে তিনি কালকেই ফিরেছেন। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটালেন এবং কেন তিনি নিজেকে গুলি চালিয়ে সুইসাইড করলেন, এটা তদন্তের ব্যাপার। শোনা যাচ্ছে তিনি ডিপ্রেশনে ছিলেন কিন্তু সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।