চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পচা পানির গন্ধে কাহিল বন্দীরা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৭, ২০২০ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মেহেরপুর জেলা কারাগারে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ড্রেনে যত বিপত্তি
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলা কারাগারের ড্রেনের ময়লা পানি নিষ্কাশিত হয় না আট বছর। এতে বিপাকে পড়েছে কারাগারে বন্দীসহ কারারক্ষীরা। জেলের মধ্যে ড্রেনের পানি পচে সেখানে পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১২ সালে ২শ ২৪ জনের ধারণক্ষমতার জেলা কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় ড্রেন নির্মাণ করা হলেও ড্রেনের পানি বের হয়ে যাবার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। সে পানি পঁচে জেলের ভেতরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। পঁচা পানিতে বিস্তার ঘটেছে মশা-মাছিসহ নানা ধরণের রোগজীবাণু। আট বছরের পঁচা পানিতে তারা মারাত্মক কষ্টে থাকেন। কারাগারের মধ্যে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে পানি পচে তাদের সেখানে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কারারক্ষীরাও বিপাকে পড়ছেন দায়িত্ব পালনে। মশাবাহিত রোগ ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। সম্প্রতি ডিআইজি প্রিজন মো. ছগির মিয়া কারাগার পরিদর্শন করে এ অব্যবস্থাপনা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি অতিসত্ত্বর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা উন্নয়ন সভায় আলোচনাও হয়েছে। উন্নয়ন সভার আলোচনায় জানা গেছে, কারাগারে বন্দীদের গোসল, পোশাক পরিষ্কার করা, তাদের ব্যবহৃত ল্যাট্রিনের পানি নিষ্কাশন হওয়ার সুযোগ নেই। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীরা আরও জানান, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ড্রেন ভরাট হয়ে দীর্ঘ বছর বদ্ধ পানি পচে গন্ধের কারণে বন্দীদের ভেতরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কারাগারের মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী কারারক্ষীরাও নাক-মুখে কাপড় বেঁধে দায়িত্ব পালন করেন। জেল সুপার মো. মখলেছুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চলতি মাসে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্দীরা জানান, কারাগারে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন হয় না। ড্রেনেই আটকে থাকে। বৃষ্টির সময় ড্রেনের পানি পুরো জেলখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ড্রেনে মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাছিও বেড়েছে মারাত্মকভাবে। ড্রেনের পচা পানির গন্ধে এক হাতে নাক মুখ ধরে থাকতে হয়। অপর হাত দিয়ে শরীরে বসা মশা তাড়াতে হয়। কারারক্ষীরাও নাকে-মুখ কাপড়ে বেঁধে দায়িত্ব পালন করেন। কারাগারের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের জন্য কারাগারের বাইরে প্রাচীর ঘেঁষে একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মিত হয়েছে। আধুনিক এ কারাগারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সুপরিকল্পিত না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। বাইরের এবং ভেতরের ড্রেনে সব সময় পানি ভরাট থেকে পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে।
জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমান আরও জানান, কারাগারের উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে খাস জমি। সেখানে পুকুর করে ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই কাজ শুরু হবে। জেলা কারাগারের চিকিৎসক ইনজামুল হক জানান, বিষয়টি অমানবিক। অতিসত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ড্রেনের পচা পানি ড্রেন উপচে পুরো কারাগারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাতে ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।