নেপথ্যের গডফাদারদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে -পুলিশ সুপার

360

চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান : গরু চোর চক্রের ৮ সদস্য আটক

দামুড়হুদা অফিস: বিষয়টি গরু চুরি হলেও, এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে অসংখ্য কৃষকের কান্না ও হাহাকার জড়িত। তাই নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের গ্রেফতারসহ চুরি, ডাকাতি বন্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গতকাল দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের গডফাদার বদর উদ্দীন বুদোসহ ৮ চোরকে গ্রেফতার পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, পিপিএম এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারের পর এই চক্রের মূলহোতা বদর উদ্দীন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে শতাধিক গরু চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে। এই চক্রের আরো দুই শীর্ষ গডফাদারসহ অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের জোর অভিযান চলছে। পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর গ্রামে গরু চুরির সময় গণপিটুনিতে শফিকুল ইসলাম নামের একজন চোর নিহত হয়। ওই চোরের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে চক্রের অন্যতম সদস্য তরজ আলীকে ধরা হয়। এরপর তরজ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গরু চোর চক্রের বাকি সদস্যদের আটক করা হয়।
জানা যায়, দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের কয়েকটি দল চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার পৃথক স্থানে শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের মৃত আজিবর রহমানের ছেলে সুন্নত (৫০), হকপাড়ার মৃত নুরনবীর ছেলে লাল্টু (৩০), ফার্মপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে দুলাল (৩২), মুক্তিপাড়ার আব্দুর বারেকের ছেলে আরজ আলী (৪৫), দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে দিলন (২৮), খাঁপাড়ার মকসেদ আলীর ছেলে তাহাজ উদ্দীন (৪০), বিষ্ণপুর গ্রামের চান্দু মন্ডলের ছেলে তরজ (৩০) ও কুষ্টিয়ার সদরপুর গ্রামের মৃত খেলাফত মন্ডলের ছেলে বদর উদ্দীন ওরফে বুদো (৫২)।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দামুড়হুদার রামনগর গ্রামে গরু চুরির সময় গণপিটুনিতে নিহত হন শফিকুল ইসলাম শফি। পরে তার কাছে থাকা উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে পুলিশের কয়েকটি টিমে বিভক্ত হয়ে প্রথমে গ্রেফতার করে তরজ আলীকে। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে একে একে গ্রেফতার করা হয় এই চক্রের ৮ সদস্যকে। গ্রেফতারের পর শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় দামুড়হুদা মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটির মূল হোতা বদর উদ্দীন। তার দলে আছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার আরো অর্ধশত চোর। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি কৃষকদের গরু চুরি করে তাদেরকে সর্বশান্ত করে আসছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ, দামুড়হুদা থানার ওসি (অপারেশন) শোনিত কুমার গায়েন, দামুড়হুদা মডেল থানায় কর্মরত সকল পুলিশ অফিসারসহ চুয়াডাঙ্গা জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।