নেত্রকোনায় ব্যাগে শিশুর কাটা মাথা যুবককে পিটিয়ে হত্যা

538

সমীকরণ প্রতিবেদন:
গুজব নয়, এবার সত্যি শিশুর কাটা মাথা পাওয়া গেছে নেত্রকোনায়। ব্যাগে করে শিশুর কাটা মাথা নিয়ে ঘোরার সময় রবিন (৩০) নামের এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ধাওয়া করে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। নিহত রবিন পেশায় রিকশাচালক। তিনি কাটলি এলাকার এখলাছ উদ্দিনের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মডেল থানার পুলিশ লাশ ও শিশুর মাথা উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় সুইপার কলোনির সামনে জনতা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকে। পরে পুলিশ দৌড়ে গিয়ে একটি ব্যাংকের মাইক্রোবাসে উঠে থানায় আশ্রয় নেয়। এদিকে ঘটনার পরপরই পুরো শহরের মানুষ থানার ফটক ঘেরাও করে ফেলে। পরে লাশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠালে সেখানেও শত শত মানুষ ভিড় জমায়। এদিকে কাটা মাথা পাওয়া শিশুটির পরিচয় মিলেছে। তার নাম সজীব। বয়স সাত বছর। সে একই এলাকার ভাড়াটিয়া রিকশাচালক রহিছ উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা আনুমানিক ১টার দিকে শহরের বারহাট্টা রোড এলাকার হরিজন পল্লীর পাশে দুজনকে ব্যাগ হাতে ঘুরঘুর করতে দেখেন লোকজন। প্রথমে চোর সন্দেহে তাদের ধাওয়া করে জনতা। পরে নিউটাউন অনন্তপুকুরপাড় এলাকায় ঢুকলে আশপাশের মানুষ এসে আটকে ফেলে একজনকে। এ সময় তার হাতে থাকা ব্যাগটিতে তল্লাশি করে শিশুর কাটা মাথা পাওয়া যায়। পরে উত্তেজিত জনতা যুবক রবিনকে ঘটনাস্থলেই পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে গেলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ ও শিশুর মাথা উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর সময় পুরো শহরের রাস্তা ব্লক করে ফেলে উৎসুক জনতা। পরে হরিজন পল্লীর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ওপর আস্ত ইট ছুড়তে থাকে হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা। পরে পুলিশ একটি ব্যাংকের মাইক্রোবাসে উঠে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। এদিকে শহরের মানুষ ঘটনাস্থলসহ হাসপাতাল ভিড় জমায় এবং থানা ঘেরাও করে। বিকালে শিশুটির শরীরের বাকি অংশ পুলিশ একই এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে উদ্ধার করে।
এদিকে শিশুটির বাবা রহিছ উদ্দিন ও মা জানান, তারা গত এক মাস হয় আমতলা থেকে কাটলিতে হীরাদের বাসায় ভাড়া থাকেন। সকালে খেয়ে শিশুটি দোকানে যায় জুস আনতে। জুস কিনে এনে ঘরে বসে খাওয়ার পর আবার বাড়ির বাইরে যায় সে। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরে নিউটাউন এলাকায় ব্যাগসহ যুবক ধরা পড়লে এবং ফেসবুকে মাথাসহ ছবি ছড়িয়ে পড়লে খবর পান তারা। নেত্রকোনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ নুর-এ-আলম নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘এটি অন্য কোনো অপরাধ কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কে কে ছিল তাদেরও খোঁজা হচ্ছে।’ এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা এখন শঙ্কিত