চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নীতিনির্ধারণী সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবদেন:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। এমনি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতিনির্ধারণী সুদ হার চার মাসের মাথায় আরেক দফা বাড়িয়েছে। এবার রেপোর (আপৎকালীন ব্যয় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর ধার) সুদহার শূণ্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে রেপোর সুদহার হবে পৌনে ৬ শতাংশ, যা আগে ছিল সাড়ে ৫ শতাংশ। রেপোর সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আপৎকালীন তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাবে। আর এ ব্যয় সমন্বয় করতে গ্রাহকের ওপর চাপাবে নানা মাশুল। সুদহার বেড়ে যাবে। আর সুদহার না বাড়লেও সার্ভিস চার্জের নামে গ্রাহকের ওপর চাপবে নানা ব্যয়। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন রেপোর হার ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেরই টাকার সঙ্কট চলছে। অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করে চলছে। তাদের হাতে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নিচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে রেপোর হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ব্যয় বেড়ে যাবে। এমনিতেই ব্যাংকগুলোর ঋণের বিপরীতে নগদ আদায় কমে গেছে, বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ, এর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করার কারণে রেপোর সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর চলমান পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, রেপোর সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে তহবিল ধার কমিয়ে দেবে। তাদের হাতে যেটুকু অর্থ থাকবে তাই দিয়েই কোনো রকম চলতে হবে। এ ছাড়া তাদের সামনে তেমন আর কিছু তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। বিপরীতে ঋণের সুদহার এক অঙ্কের ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করছে। এখন ঋণের সুদহার না বাড়লে ব্যাংকগুলোর হাতে যেটুকু অর্থ থাকবে তাই দিয়েই তাদের কার্যক্রম চালাতে হবে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, আমদানি চাহিদা বাড়ছে। এতে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে যে পরিমাণ ডলার সরবরাহ হওয়া প্রয়োজন তা হচ্ছে না। রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে যে পরিমাণ ডলার আসছে, বিপরীতে আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে তার চেয়েও বেশি। এর ফলে স্থানীয় বাজারে ডলার দাম বেড়ে যাচ্ছে। ৮৪ টাকার ডলার এক বছরের মাথায় ১১০ টাকায় উঠে গেছে। জানা গেছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণের জোগান দেয়। আর এ ঋণের বিপরীতে ট্রেজারি বিল ও বন্ড দেয়া হয়। সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দিলে দেয়া হয় ট্রেজারি বন্ড, আর এক বছরের কম মেয়াদে ঋণ দিলে দেয়া হয় ট্রেজারি বিল। ব্যাংকগুলোর হাতে এমন সোয়া তিন লাখ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড রয়েছে। ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দিলে কেন্দ্রেীয় ব্যাংকের কাছে এ ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে নগদ চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়াকে ব্যাংকিং ভাষায় রেপো বলা হয়। বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কমানোর জন্য রেপোর সুদহার বাড়িয়ে দেয়। এতে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যায়। বেড়ে যায় সুদহার। তখন কম পরিমাণ ঋণ নেয়া হয় ব্যাংক থেকে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, গত দুই বছরের কারোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ আদায়ের ওপর এক ধরনের শিথিলতা দিয়েছিল। বলা হয়েছিল ঋণ আদায় না করলেও গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। এ কারণে নগদ আদায় ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। অপর দিকে, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আয় কমে যাওয়ায় আগের মতো সঞ্চয় করতে পারছে না। এতে কমে গেছে আমানত প্রবাহ। এদিকে, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ চাহিদা বেড়ে গেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অপর দিকে, ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ ব্যাংকই চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নগদ টাকা দিয়ে ডলার কিনছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকগুলোর তারল্য প্রবাহে। এমনি পরিস্থিতিতে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হাত পাতছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ তারল্য সহায়তা ও রেপো ও বিশেষ রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে টাকার জোগান দেয়া হচ্ছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, একদিকে ব্যাংকগুলোতে টাকার সঙ্কট, পাশাপাশি ডলার সঙ্কট এবং সেই সাথে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধি, এমনি পরিস্থিতিতে রেপোর সুদহার বাড়িয়ে দেয়ায় ব্যাংকগুলো নগদ টাকার সঙ্কট মেটাতে ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলো সরাসরি সুদ বাড়াতে না পারলেও নানা সার্ভিসচার্জ আরোপ করবে বিনিয়োগকারীদের ওপর। এতে বিনিয়োগ ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। আর বিনিয়োগ ব্যয় বাড়লে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এতে বেড়ে যাবে মূল্যস্ফীতি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে গেছে। আর টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতেই রেপোর সুদহার বাড়ানো হয়েছে।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।