নিয়ম-নীতি না মেনে গড়ে উঠছে অটিস্টিক স্কুল

226

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে গড়ে উঠেছে প্রতিবন্ধীদের স্কুল। নিয়ম-নীতি না মেনেই নিজেদের ইচ্ছামতো গড়ে তোলা হচ্ছে এসব স্কুল। এসব স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম। সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, সরকারি নীতিমালা মেনেই গড়ে উঠেছে উপজেলার একটি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল, তবে এ ধরনের আর কোন স্কুল আছে, তা তারা অবগত নয়।
২০১৮ সাল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিস্টিক স্কুল গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কোথাও শুধু খাতা-কলমে চলছে এ কার্যক্রম। আবার কোথাও রাতারাতি নতুন ঘর তৈরি করেই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। জেলার জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা ও রায়পুর গ্রামে নতুন ঘর তৈরি করে আঙিনাতে টানানো হয়েছে বিদ্যালয়ের নামে সাইনবোর্ড। জীবননগর উপজেলার অটিস্টিক স্কুলে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বেশি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে নিয়ে আসছেন বিদ্যালয়ে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির সংখ্যা ঠিক রাখাতে করা হয়েছে টিফিনের ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খয়েরহুদা অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে খাতা কলমে ১২০ জন শিক্ষার্থীর নাম আছে, সেখানে উপস্থিতির হার ৬৫ জন। অন্যদিকে রায়পুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলে খাতা-কলমে ১৩০ জনের নাম থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিল মাত্র ৪০ জন। এর মধ্যে স্বাভাবিক শিশু ছিল ২৫ জন আর ১৫ জন ছিল প্রতিবন্ধী শিশু। ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদনহীনভাবে যত্রতত্র প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপনে নিরুৎসাহিত ও মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করে।
খয়েরহুদা অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লিপি খাতুন বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়মনীতি মেনেই বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছি। তবে যাতায়াতের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে একটু সমস্যা হয়। যার ফলে উপস্থিতির হার একটু কম হচ্ছে। রাস্তা এবং যাতায়াতের ব্যবস্থাটা যদি একটু ভালো হতো, তা হলে উপস্থিতির হার আরও বেশি হতো।’
স্থানীয়রা বলছেন, যত্রতত্র অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গড়ে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নিয়ম-নীতি বহির্ভূত বিদ্যালয় যাতে না গড়ে উঠতে পারে সেদিকে প্রশাসনকে দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে উপজেলায় দুটি বিদ্যালয়ের তথ্য আছে। তবে এর মধ্যে খয়েরহুদা অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলের সমস্ত তথ্য সম্পর্কে আমরা অবগত। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং সরকারি নিয়মনীতি মেনেই বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে, রায়পুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলের বিষয়টি আমাদের তেমন জানা নেই। তারা সরকারি কোনো নিয়মনীতি না মেনেই বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছে।’
জীবননগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম আর বাবু বলেন, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের যে স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এগুলো যদি তাঁরা সঠিক নিয়মে পরিচালনা করেন, তা হলে এটি একটি মহতী উদ্যোগ। কিন্তু কিছু অসৎ ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অবৈধভাবে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করছেন। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, জীবননগর উপজেলায় দুটি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। তবে এর মধ্যে খয়েরহুদা অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি সরকারি নিয়মনীতির মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যটির বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। কারা বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন, এ বিষয়ে আমরা বলতে পারব না।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুল করতে হলে সরকারি নীতিমালা মানতে হবে। নীতিমালার বাইরে যদি কেউ অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করে থাকে, তা হলে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।