নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ চাই

493

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চুয়াডাঙ্গা জেলা আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। একাধারে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, সমাজসেবক, সাংস্কৃতিমনা ও প্রগতিশীল মানুষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক ভাবনা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সময়ের সমীকরণ-নির্বাচনী সমীকরণ সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এসএম শাফায়েত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতি আপনার আনুগত্য লক্ষণীয়। এই রাজনৈতিক দলের প্রতি আপনার এত টান কেন?
শরীফুজ্জামান শরীফ: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। কলেজ জীবনে ছাত্রদলের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু। এখনও পর্যন্ত বিএনপি’র সঙ্গে আছি আর আজীবন থাকবো। আমার জীবন দেশ, সাধারণ মানুষ ও দলের কল্যাণে উৎসর্গ করেছি।
চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর-আলমডাঙ্গা) আসনবাসীর জন্য আপনার উন্নয়ন ভাবনা কী, নির্বাচিত হলে কী করতে চান?
শরীফুজ্জামান শরীফ: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মানুষ তথা সদর ও আলমডাঙ্গাবাসী আজও অনেক উন্নয়ন বঞ্চিত। আর্থসামাজিক ভাবে এখনও পিছিয়ে রয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা। জনগণের জীবন মানোন্নয়নে কিছু করতে চাই। চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গার আনাচে কানাচে থাকা প্রতিটি মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে তবেই আমার রাজনৈতিক জীবনের স্বার্থকতা পাবো।
আপনার দল আপনাকে ছাড়াও আরো তিনজন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
শরীফুজ্জামান শরীফ: বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। ফলে এ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ব্যপ্তি অনেক বেশি। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতেই দলের নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্ত। আমি দলের সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেছি। আপনারা জানেন, আমরা চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। এগুলো যাচাই বাছাই হবে। ওই সময় কেউ বাদ পড়ে গেলে যেন মাঠ ফাঁকা না থাকে এই কারণে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছে। শিঘ্রই একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হবে, আমি আমার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে তার পক্ষে কাজ করবো। ধানের শীষের বিজয় তথা গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবো।
সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে কতটা সফল?
শরীফুজ্জামান শরীফ: বিগত আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও সকল ইউনিটের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থেকেছে। এখনও পর্যন্ত শহর থেকে অজপাড়াগাঁয় তারা আমার সঙ্গে ছুটে বেড়াই। নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে অনেকটাই সফল আমি।
২০১৪ সালের আন্দোলন সংগ্রামে আপনার ভূমিকা কেমন ছিলো?
শরীফুজ্জামান শরীফ: ১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল এটি একটি একক নির্বাচন। কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। দেশের ১৫৪টি আসনে আ.লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়। যে ভোটে ৫ শতাংশও ভোটার খুজে পাওয়া যায়নি, কয়েকটি কেন্দ্রে কুকুর শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে তাদের এই অবৈধ ভোট বর্জন করেছিল বিএনপি। কেন্দ্র থেকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক সফল তিন বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নির্দেশে আমরা রাজপথে সক্রিয় ছিলাম, দলের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলাম। ওই সময় আমাদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘ সময় বিএনপি’র জেলা কার্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এখানে এক প্রকার নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়। তখন আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামি। এখনও পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগ্রামে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি।
নির্বাচনের প্রতিকূল পরিস্থিতি স্বত্ত্বেও এই নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনের পরিবেশ কেমন মনে করছেন?
শরীফুজ্জামান শরীফ: এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ দিয়ে সারা বাংলাদেশের পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা হয়েছে। কোন ঘটনা ঘটেনি, অস্তিত্ব নাই, কিন্তু লাল টেপ মুড়িয়ে বোমা হামলা মামলা সাজিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। এতে তাদের যে পরিকল্পনা ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্ত নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হয়েছে, জাগ্রত হয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও। এখন বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও সজাগ ও উজ্জীবিত। কোন শক্তি তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আগামীতেও দেবেন তা অনুসরণ করে এগিয়ে যাবো আমরা। দেশমাতা কারাগারে আছেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি। আমাদের একজনকে গ্রেফতার করলে আরও ১০জন রাস্তায় নেমে আসবো। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ এই আন্দোলন সফল করবে বলে আমি মনে করি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রমাণ করবো আমরা জিয়ার সৈনিকেরা কতটা শক্তিশালী।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যাপারে কোন অভিযোগ আছে কী?
শরীফুজ্জামান শরীফ: কারো ব্যাপারে আমার কোনও অভিযোগ নেই। বিএনপি, আ.লীগ, জাতীয় পার্টিসহ যতগুলো দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সকলেই আমরা এই জেলার মানুষ, মানুষের উন্নয়নে কিছু করার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাবো সবাই এটাই প্রত্যাশা। আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমরা একটা স্লোগানে সবাই সামিল হতে চাই ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’।
এমন কোন স্বপ্ন আছে কী, যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না?
শরীফুজ্জামান শরীফ: আমি অনেক ছোট থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আমার পরিবার থেকে সবসময়ই আমাকে চাপ দেওয়া হয়েছে রাজনীতি না করার জন্য। একটা সময় পরিবারের সিদ্ধান্তে আমাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আমি আবারও আমার সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হই। একটা সময় আমার পরিবারের লোকজন আর আমাকে রাজনীতি বিমূখ করতে পারেনি। এখন তারাই (পরিবার) আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিচ্ছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সহযোগির ভূমিকায় আমার পরিবারও অন্যতম। আমার স্বপ্ন এটাই- আমি সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমানোন্নয়নে কিছু করতে চাই। জাতীয় সংসদে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধি হয়ে জনকল্যাণে কাজ করতে চাই।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কী বলতে চান?
শরীফুজ্জামান শরীফ: আমরা অনেক হামলা মামলা সহ্য করেছি। ঘরে বসে থাকলেও যদি মামলার শিকার হতে হয়। তবে ঘরে বসে না থেকে আপনারা সকলে রাজপথে নেমে আসুন। গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে সামিল হোন, দেশমাতার মুক্তির আন্দোলনে গর্জে উঠুন। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যেন আরেকটি অবৈধ সরকারের জন্ম না হয় সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দিন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গণতন্ত্রের বিজয় হবে, ধানের শীষের বিজয় হবে। মনে রাখবেন, আমার জীবনের বিনিময়ে যদি দেশের ১৬ কোটি জনগণ ও তাদের গণতন্ত্র মুক্তি পায়, তবে সে জীবন দিতে কোন বাঁধা নেই। এই একটি জীবনের জন্য দেশের মানুষ যদি শান্তিতে থাকতে পারে, তবে আমার জীবন উৎসর্গ করে দিতে চাই।
সাধারণ জনগণ তথা সম্মানিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
শরীফুজ্জামান শরীফ: বিগত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ও তাদের কর্মকান্ড দেখে খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত। ভোট আসলেই তাদের মধ্যে এক প্রকার অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে। অনেকেই বলছেন, ‘ভোট তো হবে না, ভোট ওরা জোর করে কেটে নেবে’। আমি সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ‘আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসবেন। আপনার ভোট আপনি দেবেন। ৩০ তারিখ সারাদিন নিজের ভোট নিজে দিন। আপনার ভোটটি হোক গণতন্ত্রের পক্ষে, আপনার ভোটটি হোক গণতন্ত্র মুক্তির পক্ষে। ভয় পেলে জয় করতে পারবেন না। তাই আসুন ভয়কে জয় করে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের সংগ্রামে সামিল হই।’