চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিরাপত্তা নেই জীবনের, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোই যাচ্ছে না

প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ : তিন মাসে এক হাজার ৬০১ জনের প্রাণহানি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ৯, ২০২২ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কেউ পথে বসছেন, কেউ পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী হচ্ছেন, ঘাতক পরিবহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে কারও চলে যাওয়ায় কাউকে কাউকে মুছে ফেলতে হচ্ছে কপালের সিঁদুর, পরতে হচ্ছে বিধবার কাপড়। তা সত্ত্বেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্টদের, লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার। চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ এই তিন মাসে দেশে ১ হাজার ৩০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৬০১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৩ জন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের ৩০টির বেশি বৈঠক হয়েছে। বেশিরভাগ সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল অনুপযুক্ত ও পুরনো গাড়ি উচ্ছেদের বিষয়টি। এরই মধ্যে গত ১২ বছরে সরকারের পক্ষে ঢাকা মহানগরী থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে দফায় দফায়। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকেও ঢাকার মতো দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণসহ অনুপযুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এর আগে একই লক্ষ্যে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ১১ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত ২২ সদস্যের কমিটি ২০১৯ সালে ১১১টি সুপারিশ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৫৪ নম্বর সুপারিশে ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। গঠন করা হয়েছিল টাস্কফোর্স। ২০১৮ সালে, গত বছরের শেষের দিকে ও চলতি বছরের শুরুতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তাদের ৯টি দাবির মধ্যে একটি ছিল ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

এত প্রাণহানি, আন্দোলন, দফায় দফায় বৈঠক, সুপারিশ, টাস্কফোর্স গঠনের পরও প্রতিনিয়ত কেন সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলছে? এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কেন? সমস্যাটা কোথায়? এমনটি জানতে চাওয়া হয় বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোঃ হাদিউজ্জামান, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর কাছে। তারাও একই কথা বলছেন। বলছেন, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ, বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণসহ অনুপযুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কের চেয়ে পরিবহনের সংখ্যা বেশি। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছেই। আবার যত পরিবহন রয়েছে, সে অনুযায়ী প্রশিক্ষিত চালক নেই। পরিবহন সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসেনি। ফলে পরিবহন সেক্টরও যুগ যুগ ধরে অপরিবর্তিত অবস্থায়ই রয়ে গেছে। যানবাহন ও সড়ক-মহাসড়কের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি তুলনামূলক কাজের গতি। মনিটরিং ব্যবস্থা ও এনালগ যুগের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার এই অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। তবে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পেছনে অন্য সব কারণ থাকলেও যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পরিবহন সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের কোন পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের যে নেতৃত্বের চিন্তা-চেতনা, এরও কোন পরিবর্তন হয়নি। আধুনিক চিন্তা চেতনার নতুন নেতৃত্ব আসলে তাদের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন হতো এবং সেভাবেই পরিবহন সেক্টরেও পরিবর্তন আসত। নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় সরকারও কিছু করতে পারছে না। এতে তারা সরকারকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং আমরা যারা কাজ করছি- আমাদেরও বাধাগ্রস্ত করছে। আবার সড়ক ও চালকের চেয়ে পরিবহনের সংখ্যা বেশি। ফিটনেসবিহীন, অনিবন্ধিত গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পরিবহনের সঙ্গে যারা জড়িত, এক্ষেত্রে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তারা চালকদের জীবনমানেরই উন্নয়ন করেননি। তারা মনে করছেন- চালকরা যদি উন্নত হয়, শিক্ষিত হয় তাহলে তাদের নেতৃত্ব মানবে না। তার কথায়- পরিবহন সেক্টরে নেতৃত্ব দেয়া নেতারা আগের ধ্যান-ধারণায়ই রয়ে গেছেন। তারা আইনের বাস্তবায়নও করতে দিচ্ছেন না। তারা মনে করেন, আইনের বাস্তবায়ন হলে তাদের সমস্যা হবে। কিন্তু এটি পৃথিবীর কোথাও নেই। তারা যেভাবে, যে কল্পনায়, যে চিন্তায়, যে চেতনা নিয়ে এই পরিবহন সেক্টরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এর পরিবর্তন হলেই এই সেক্টরে পরিবর্তন আসবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। যার যেটা দায়িত্ব সেটা পালন না করলেও যদি বিচার না হয়, জবাবদিহি করতে না হয় তাহলে কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজটা সুন্দরভাবে করবে না। তাই গাফিলতির জন্য বিচার হতে হবে, জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কোন অংশেই কমেনি। কারণ দুই জায়গায় ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রথমত, পরিকল্পনায়। লোকাল ট্রাফিক বা লোকাল জনগণকে বাদ দিয়ে কোন পরিকল্পনা হয় না। দ্বিতীয়ত, পলিসির ঘাটতি। কেন না, সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। পৃথিবীর সব গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকে যানবাহনের ওপর। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বিআরটিএ পলিসি দুর্বলতা এখনও রয়ে গেছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য যে পদক্ষেপ নেয়ার কথা, বিআরটিএ তেমন কিছুই নেয়নি। সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় সড়কে কোন শৃঙ্খলা আসবে না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাপান ২০১০-২০২০ সালের মধ্যে তাদের পলিসির মাধ্যমে সড়ক থেকে প্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল সরিয়েছে। পরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলজনিত প্রায় ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে গেছে। সেটি যেসব গাড়ির ইকোনমিক লাইফ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোর। আমাদেরও অধিকাংশ গাড়ির ইকোনমিক লাইফ শেষ হয়ে গেছে। ২০-২৫ বছরের গাড়ি চলছে। কিন্তু পলিসি নিতে হবে যে, ২০ বছরের পুরনো গাড়ি আর রাস্তায় চলবে না। এতে অনেক গাড়ি সড়ক থেকে কমে যাবে এবং দুর্ঘটনাও কমে আসবে। যে গাড়ির বয়স বেশি, ফিটনেস নাই- সে গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাবেই। আবার ফিটনেস সনদ নেয়া বা ট্যাক্সের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ছোট ছোট গাড়ি সহজলভ্য হওয়ায় সহজেই সড়কে নামছে। যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সব দেশ সব সময়ে প্রাধান্য দিচ্ছে। আমাদেরও উচিত ছিল- বিআরটিএর গবেষণা করে বলার যে, ঢাকা শহরে ৫ লাখ গাড়ি (৫ লাখ সংখ্যাটি উদাহরণ হিসেবে) চলার ধারণ ক্ষমতা আছে। আর সেই অনুযায়ী নিবন্ধন দিতে পারত সংস্থাটি। আমাদের হাল্কা বা মধ্যম গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষিত চালক রয়েছে। ভারি যানবাহন চালানো চালকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি হবে না। কিন্তু ভারি যানবাহনের সংখ্যাই রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ। এর মধ্যে বাস প্রায় ৭০ হাজার, বাকিগুলো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য গাড়ি। চালকদের অনেকে ফরমাল ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসে না।

অধিকাংশই হেলপার, কন্ডাক্টর থেকে চালক হয়েছে। গত ১ বছরে প্রায় ৬০ হাজার নতুন ফিটনেসবিহীন গাড়ি যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেখানে ফিটনেসবিহীন গাড়ি কমার কথা, সেখানে আরও বাড়ছে। এই গাড়িগুলো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নামানো হয়েছে। এসব গাড়ির যারা মালিক তারা কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার তারাই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার কমিটিতে বসে আছেন। এটি একটি চক্র। এই দুষ্ট চক্র ভাঙতে হবে। ১১১ দফা সুপারিশেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কথা বলা আছে। কিন্তু ১১১ দফা সুপারিশের বাস্তবায়ন খুবই সামান্য। এই সুপারিশের মধ্যে মাত্র ১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেটি হলো- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণ। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাস্কফোর্স দিয়ে এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হবে না। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া উচিত, যারা ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন, ৩৬৫ দিন দরদ দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।

কেননা, টাস্কফোর্সে থাকা লোকজনের আরও অনেক কাজ আছে। তারা এদিকে সময় দিতে পারেন না। পরিবহনের সংখ্যা কমিয়ে আনতে, নতুন করে গাড়ির নিবন্ধন দেয়া, প্রশিক্ষিত চালক তৈরি ও গাড়ির আয়ুষ্কাল নির্ধারণসহ অনুপযুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ রয়েছে, তারা ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে দেখবে। এটি তো বিআরটিএ’র কাজ, এমনটি তার দৃষ্টিতে আনলে তিনি বলেন, একটি গাড়ি হয়তো ২০-২৫ বছর চলতে পারে। একটি গাড়ির ইকোনমিক লাইফ কি হবে, এটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। নতুন গাড়ি কেনা ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ অনেকের পার্ট রয়েছে। এখানে রেভিনিউ’র বিষয় জড়িত।

সড়ক দুর্ঘটনায় চালক ও মালিকের দায়দায়িত্ব আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মালিক কিভাবে চালক নিয়োগ দিচ্ছেন, কার হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন এসব মালিককে দেখতে হবে। অবশ্যই সব দুর্ঘটনা চালকের দোষে সংঘটিত হয় না। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনেক সুপারিশ আছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। একমাত্র স্টেক হোল্ডারদের পরিবহনের দায়িত্ব দিলে দুর্ঘটনা ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে দুর্ঘটনার ঘটনায় অনেকের দায় আছে। রাস্তার দু’পাশে দোকান বসছে। এসব স্থানীয় সরকারের বিষয়। নিরাপদ সড়ক গড়তে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি মোজ্জামেল হক বলেন, যানবাহন ও সড়ক-মহাসড়কের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় কাজের গতি বাড়ছে না। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। আবার সড়ক, যানবাহন বাড়ছে ঠিকই কিন্তু প্রশিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়ছে না। প্রতিটি রাস্তায় প্রায় ১২ মাসই কোন না কোন কাজ করা হচ্ছে। এতেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগেও কোথায় যেন হোঁচট খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা গেছে, চাকা ফেটে ও ইঞ্জিনের ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে যানবাহনটি নামানোর আগে চেক করা উচিত। কিন্তু সেই মনিটরিংটাও নেই। সব ধরনের যানবাহনের ওপর সমান নজরদারি থাকা দরকার। ট্রাফিক সিস্টেম ডিজিটাল করারও বিকল্প নেই। এসব নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা আমাদের নেই। একটি দুর্ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে যারা দায়ী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিলে এসব কমে আসবে। কিন্তু এমনটি হচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটলে হাজারও তদন্ত কমিটি হয়, সেই কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেন। কিন্তু প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখে না বলেই আজও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেনি। প্রতিনিয়তই সড়কে প্রাণ ঝরছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।