নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার : কাজ বন্ধের নির্দেশ

253

আলমডাঙ্গার জুগিরহুদা-লক্ষীপুর পাঁকা রাস্তা সংস্কারে দরপত্র বহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গার জুগিরহুদা-লক্ষীপুর পাঁকা রাস্তা নির্মাণ কাজে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দরপত্র বহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা উপজেলা এলজিইডি অফিস বরাবর অভিযোগ করলে অভিযোগের ভিত্তিতে রাস্তা পরিদর্শন শেষে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করে নি¤œমানের সামগ্রী উত্তোলনের বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি। বিষয়টি তদন্তের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও করা হবে বলে জানা যায়।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় কোটি ১ কোটি টাকা ব্যয়ে আলমডাঙ্গার উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের জুগিরহুদা থেকে লক্ষীপুর ১২শ’ মিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। এ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের লিটন ট্রেডার্স ও আলমডাঙ্গার সোহাগ ট্রেডার্স। ঝিনাইদহের লিটন ট্রেডার্সের ঠিকাদারের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ক্রয় করে তাদের সমঝোতার চুক্তিতে কাজ বাস্তবায়ন করছে বলে জানা যায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের চুক্তি বর্হিভূতভাবে সংস্কার কাজ করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী এলজিইডি আলমডাঙ্গার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে রাস্তা নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে স্ব-স্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা বন্ধ করে দরপত্রের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করার তাগিদ দিয়ে কোন লাভ না হওয়ায় এলাকাবাসী রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এই রাস্তা নির্মাণ কাজে এলজিইডি অফিসের এক কর্মকর্তার যোগসাজসে নি¤œমানের ইট, বালি ব্যবহার করে সঠিক তদন্ত ছাড়াই রাস্তা নির্মাণ করে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা সার্ভেয়ার ইজাজুল জানান, চেয়ারম্যানদের এলজিএসপি প্রকল্পের তৈরি রাস্তার ইট, নতুন পিচকরণ রাস্তায় ব্যবহারের নির্দেশ আছে। এই রাস্তার নি¤œমানের এলজিএসপি প্রকল্পের ইট ব্যবহার হবে কিনা এটা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তারাই বলতে পারবে। আমি না।
ইউপি সদস্য জানান, কাজের শুরু থেকেই নি¤œমানের ইট ব্যবহার করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি আলমডাঙ্গা এলজিইডিতে জানানো হয়। ঠিকাদারকে ডেকে সব ধরনের আশ্বাস দিয়ে সঠিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিলো গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলাকাবাসীর দাবি না মেনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে কাজ করে চলেছেন বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার সোহাগ বলেন, আমরা সিডিউল মোতাবেক স্যালভেন্সের ইট ব্যবহার করছি। সিডিউলে যদি কোন পোড়া মাটি অথবা মাটি ব্যবহারের নির্দেশ দেয়, আমরা সেটাই ব্যবহার করতে পারবো। আমাদের এই রাস্তা নির্মাণে এলজিএসপির বরাদ্দকৃত অর্থে নির্মাণকৃত রাস্তার ইট এই রাস্তায় ব্যবহার করা যাবে বলে জানান।
আলমডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ সময়ের সমীকরণকে জানান, স্থানীয়ভাবে আমাদের নিকট নি¤œমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে। এই কারণে আমরা দপ্তর থেকে নি¤œমানের ইট, খোয়া অপসারণের জন্য ঠিকাদারের নিকট চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি কাজের জন্য ভাটা মালিক ১নং ইট দেওয়ার কথা বলে তার মধ্যে নি¤œমানের ইট প্রদান করে এই কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একান্তভাবে দায়ী নয়। আমরা দ্রুত নি¤œমানের ইট দ্রুত অপসারণ করে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।