চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৮ অক্টোবর ২০২১

নিত্যপণ্যে দুর্ভোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৮, ২০২১ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রায় প্রতি বছর পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। সুস্বাদু এই খাদ্যপণ্যটি রান্নায় উপাদেয় বিধায় গৃহিণীরা পেঁয়াজ ছাড়া রান্না ভাবতেই পারেন না। সিন্ডিকেটও অপেক্ষমাণ থাকে কখন সামান্য ছুতোয় পেঁয়াজকে স্বাভাবিক মূল্য থেকে আরও ওপরে তোলা যাবে। সারা বছর স্থিতিশীল থাকলেও সময়ে সময়ে পেঁয়াজকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে কতিপয় অপকৌশল নেয়াও এক অলিখিত বিধি। প্রথমত- অক্টোবর মাসে পুরনো পেঁয়াজ শেষ পর্যায়ে থাকে। পরবর্তীতে নতুন পেঁয়াজ আসার সাময়িক এই ব্যবধানের ভেতরেই ঢুকে পড়ে ওঁৎ পেতে থাকা অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। বাইরে থেকে আসা পেঁয়াজের আমদানির ওপরও নজর থাকে কুচক্রী মহলের। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে পেঁয়াজ গুদামজাত করে দাম বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে পঁচা পেঁয়াজ সাগরের বুকে ফেলে দেয়ার দুঃসহ চিত্রে সাধারণ ভোক্তাশ্রেণী হতভম্ব হয়ে পড়ে। অনুরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করা যায়-চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, মুরগি, ডিম, দুধসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যে। সর্বত্রই অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজি পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে। এমন খবর পুরনো হওয়ার অবকাশও মেলে না। পরের দিনই খবর হয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ার দুঃসহ সংবাদ। হঠাৎ করেই পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল হচ্ছে জনজীবন। বাড়ছে অন্যান্য পণ্যের দামও। ফলে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে দেশে বছরে ৩৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়। ২৮ লাখ পেঁয়াজের চাহিদার বিপরীতে অবশিষ্ট থাকে ২৩ লাখ টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এখানেই মুনাফা অর্জনকারী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজ তার লাগামহীন মূল্যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রধান কারণ সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে যথেষ্ট ঘাটতি। এ ছাড়া জনস্বার্থকে বিবেচনায় না এনে ব্যবসায়িক মুনাফা লাভ অত্যধিক গুরুত্ব পাওয়াও মূল্য বৃদ্ধিকে লাগামহীন করে তোলে। তবে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়। তবে এমন ব্যবস্থাও যে সর্বজনীন হয় তা বলা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আরও কঠোর নজরদারিতে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। সব মিলিয়ে বিধি মোতাবেক নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরী।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।