নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

332

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্য সাধারণের জন্য সহনীয় মাত্রায় রাখা। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার কতটা সফল হয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে বাস্তবতা উপলব্ধি করার উদ্যোগ এখন সরকারেরই নেয়ার সময় এসেছে। কারণ সরকার নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রমাণও করেছে। ঈদ-উল আযহার’র আগে থেকেই চালের দাম বাড়া শুরু করলেও ঈদের পর তা হঠাৎ করে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের মূল্য বৃদ্ধি রেকর্ড সৃষ্টি করে। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চাল ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজি প্রতি ২/৩ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং ১৪/১৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধির পর এত দেনদরবার করে ২/৩ টাকা মূল্য কমানোকে অনেকেই হাস্যকর বলে মনে করছেন। চালের বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আগেই প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় থাকলেও চলতি সপ্তাহে এগুলোর দামও বেড়েছে। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল মহলের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, উদ্বেগ এবং হতাশারও।
প্রতি বছর কোনো না কোনো অজুহাতে ব্যবসায়ী মহল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হয়। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে তলানিতে ঠেকলেও দেশীয় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। বরং তখনও ভিন্ন অজুহাতে পূর্ব মূল্য বহাল রাখা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দু’দফা বন্যার কারণে সবজিতে কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি হতেও পারে। কিন্তু যেভাবে বাড়ছে তা স্বাভাবিক নয়। বরং দাম বাড়ার পেছনে কোনো মহলের কারসাজি থাকার শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। একটা পরিবারের শুধু খাবার খরচই শেষ কথা কথা নয়। এর সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের সম্পর্কও জড়িত। পণ্যের মূল্য যেভাবে বাড়ছে তাতে সঞ্চয় তো পরের কথা, দৈনন্দিন খরচের জোগান দেয়াও অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত এবং নি¤œ আয়ের মানুষের পক্ষে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বোঝা বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।
পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পরও কেউ না খেয়ে থাকছে না-এমন যুক্তি দিয়ে যারা সান্ত¡না খুঁজে পেতে চান তাদের মনে রাখা উচিত এর মানে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয় বরং অসহায়ত্ব বেড়েছে। মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা লড়াইয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখায় প্রতিবাদে নামতে পারছে না। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াতেই পারে।
নিত্যপণ্যের ঘাটতি যেমন জাতির পুষ্টি পূরণের ক্ষেত্রে হুমকি তেমনি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিও একইভাবে জাতীয় পুষ্টি চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেই সঙ্গে নিয়মিত সঞ্চয়, স্বাস্থ্য রক্ষা, শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক নয়। তাই সুযোগসন্ধানী যেসব ব্যবসায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে পণ্যমূল্য বাড়ানোর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।