নিজ নামের সড়কটিতে আর হাটা হলো না কবরীর

19

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ‘কখগঘঙ’ নামের একটি সিনেমার সুটিং করেছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্র নায়িকা সারাহ বেগম কবরী। ১৯৬৯ সালে ‘কখগঘঙ’ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতেই চুয়াডাঙ্গায় এসেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাঁর নাম অনুসারে পরিচিতি পায় বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় কবরী রোডটি। ২০১৬ সালের একটি অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে কবরী বলেছিলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার সেই রাস্তাটি বেঁচে থাকতে আর একবার দেখে যেতে চাই।’ চুয়াডাঙ্গা শহরের ‘কবরী রোড’ আজও রয়ে গেছে কিন্তু চিত্র নায়িকা কবরীর আর দেখা হলো না এই সড়কটি। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিটে দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সে সময়ের নামকরা চিত্রগ্রাহক ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে বেবী ইসলাম। তাঁর আমন্ত্রণেই চুয়াডাঙ্গায় এসে ‘কখগঘঙ’ সিনেমাটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা। শুধু কবরীই নয় চলচ্চিত্রটির সুটিং সম্পূর্ণ করতে চুয়াডাঙ্গা এসেছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, আব্দুল আলী লালু, নাজনিন, হাবা হাসমত, তন্দ্রা ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, রাজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গার প্রয়াত কৃতী অভিনেতা নাণ্টুসহ আরও বেশ কয়েকজন।
১৯৭০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পায়। ততদিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি নতুন সড়কের নাম হয়ে যায় কবরী রোড। আজ পর্যন্ত ওই সড়কটি কবরী রোড নামেই পরিচিত। চুয়াডাঙ্গায় এসে কবরী যে বাড়িতে ছিলেন সে বাড়িটি আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছে। বাড়িটির নাম ‘সেতাব মঞ্জিল’। চিত্রগ্রাহক বেবী ইসলামের নানার বাড়ি। কবরী রোডটি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ সড়ক ও পৌরসভা সড়কটিকে কে সংযুক্ত করেছে। এই সড়কেই রয়েছে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুনের বাসভবন।