নিখোঁজের তিন দিন পর আখখেতে মিলল গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত লাশ

42

দর্শনা আকন্দবাড়ীয়ায় মাদকাসক্ত স্বামীর কাণ্ড, নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, হত্যা মামলা দায়ের
দর্শনা অফিস/প্রতিবেদক, উথলী:
জীবননগর উপজেলার উথলী থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর তানজিলা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল উথলী গ্রামের কোমরপাড়া মাঠের একটি আখখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত তানজিলা জীবননগর উপজেলার শিংনগর গ্রামের মেহেরপাড়ার আবদুস সালামের স্ত্রী। তিনি বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়ীয়া সরকারি আবাসনে বসবাস করতেন। প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, নেশার টাকা না পেয়ে রাগে-ক্ষোভে তাঁর পাষণ্ড স্বামী আবদুস সালাম তাঁকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে আবদুস সালাম গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে, লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই জীবননগর উপজেলার ছটাংগা গ্রামের রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সালাম ও তাঁর স্ত্রী তানজিলা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে দুই কন্যাসন্তান নিয়ে আকন্দবাড়ীয়া সরকারি আবাসনের ১ নম্বর সেক্টরে বসবাস করে আসছিলেন। স্বামী আবদুস সালাম কর্মহীন ও নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তানজিলা দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ও হাটে-বাজারে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। প্রায়ই নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সালাম তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সকালে নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের দুজনের মধ্যে সামান্য ঝগড়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর সালাম তাঁর ৫ ও ২ বছরের দুই কন্যাসন্তানকে এক প্রতিবেশীর কাছে রেখে তানজিলাকে খড়ি কুড়াতে যাওয়ার নাম করে মাঠে নিয়ে যান। পরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তাঁরা বাড়িতে না ফিরে এলে প্রতিবেশীর কাছে রেখে যাওয়া সন্তান দুটি কান্নাকাটি শুরু করে। পরে ওই প্রতিবেশী সন্তান দুটিকে সালামের পিতার বাড়ি শিংনগর গ্রামে বয়স্ক দাদীর কাছে তাদের রেখে আসেন। এ ঘটনার তিন দিন পার হলেও সালাম ও তানজিলা নিখোঁজ ছিলেন। পরে গতকাল বিকেলের দিকে স্থানীয় কয়েকজন জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ী নিকট কোমরচারা মাঠের রাস্তা দিয়ে আসছিলেন। এসময় মোল্লাবাড়ীর শাহাদাত হোসেনের আখখেতের মধ্যে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ দেখতে পান তাঁরা। এলাকায় দ্রুত ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে আবাসনের লোকজন তানজিলাকে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে জীবননগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তানজিলার লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে, লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকাল বিকেলে কয়েকজন কৃষক একজন নারীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে জীবননগর থানার পুলিশ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লাশ উদ্ধার করে।
জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের কারণে তানজিলাকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত তানজিলার স্বামী আবদুস সালামকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবারের লোকজন পারিবারিক কলোহের কারণে তানজিলার স্বামী সালাম তাঁকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করছেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জীবননগর উপজেলার ছটাংগা গ্রামের রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে, এখনই এ ঘটনায় সঠিক করে কিছু বলা সম্ভব নয়।