নারী-পুরুষ ও শিশুসহ চার দিনে ১৪৩ রোগী ভর্তি : স্যালাইন সংকট

526

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে একদিনেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪১ জন : চিকিৎসা দিতে হিমশিম চিকিৎসক ও নার্সদের
আফজালুল হক: কয়েকদিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা বাড়লে চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। একদিনেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় অর্ধ শতাধিক রোগী। এছাড়া দু’তিনদিনে নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে চিকিৎসা নিয়েছে কয়েকশ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। এছাড়া গত চার দিনে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু রোগী। এরমধ্যে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বিভিন্ন সমস্যার কারণে ভর্তি হয়েছেন। বাকী রোগীগুলো সবিই ডায়রিয়া আক্রান্ত। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্তব্যরত নার্সরা। গতকাল বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪১ জন নারী-পুরুষ ও শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৪ গুণেরও বেশি শিশু ভর্তি থাকতে দেখা গেছে।
একজন জ্যেষ্ঠ সেবিকা জানান, এই হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগী থাকে ২০০ থেকে ২৫০ জন বা তারও বেশি। ফলে মেঝেয় ও বারান্দায় রেখে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালে খাওয়া স্যালাইন থাকা সত্বেও রোগীদেরকে ঠিক মত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ খাওয়া স্যালাইন পাইনি বলেও অভিযোগ করেন। আর তিন দিন আগে গায়ে বা শরীরে পুশ করা স্যালাইন শেষ হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।
ওয়ার্ডের বাইরেও ভর্তি হওয়া এক শিশু রোগীর মা জানান, হাসপাতালে এসে বেড পাইনি। ঠা-ায় ছোট বাচ্চাকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। বেশি ঠাসাঠাসিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে মেঝে পর্যন্ত খালি নাই। আমার শিশু সন্তানসহ মেঝে থাকা সব রোগীই শিশু হওয়ায় খুব কষ্ট করতে হচ্ছে।
এদিকে ভর্তি রোগীর স্বজনেরাসহ চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফিরে যাওয়া রোগী ও রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, খাবার স্যালাইন হাসপাতালে থাকা সত্বেও রোগীদেরকে ঠিক মত দেওয়া হচ্ছে না। আমরা বাইরে থেকে খাবার স্যালাইন কিনে রোগীকে খাওয়াচ্ছি। শুধুমাত্র সকালে ১টি করে খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও রোগী ও রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন। ভর্তির পর থেকে অনেক রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনেরা সরকার সরবরাহকৃত খাবার স্যালাইন পাননি বলেও জানান।
ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন জানান, এই ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। তাছাড়া পর্যাপ্ত ঔষধ হাসপাতালে নেই বলে কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে।
এবিষয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ড (শিশু) ইনচার্জ বলেন, হাসপাতালে খাওয়া স্যালাইন সরবরাহ আছে। রোগীদেরকে ঠিক মত স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তবে শরীরে পুশ করা স্যালাইন দু’দিন আগে শেষ হয়ে গেছে। শরীরে পুশ করা স্যালাইন আবার কবে থেকে সরবরাহ করা হবে জানতে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।
এবিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও)’র নিকট মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে হাসপাতালের অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি।
হঠাৎ শিশু রোগী বেড়ে যাওয়ার কারন জানতে মুঠোফোনে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হঠাত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শিশুদের ঠিকমতো টিকা প্রদান ও ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হলে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তাছাড়া ঠা-া আবহাওয়া থেকে শিশুকে দূরে রাখা এবং গরম কাপড় পরিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া ডায়রিয়া এক ধরনের পানিবাহিত রোগ। রোটা ভাইরাসের কারণে এই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। ৬-১৬ মাস বয়সী আক্রান্ত শিশুকে ঘন ঘন স্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ও রোটারিক্স টিকা দিলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেও তিনি জানান। এছঅড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ, পাতলা খাবার ও স্যালাইন খাওয়ানো জরুরী বলে তিনি জানান।