নামেই লকডাউন; দ্বিতীয় দিনেও সবকিছু ঢিলেঢালা!

15

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সাধারণ মানুষই মানছেন না সরকারি নির্দেশনা

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি অগ্রাহ্য, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১ জনকে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকারি ঘোষিত ‘লকডাউন’ দ্বিতীয় দিনের মাথায় এসে কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ যেন শুধু নামেই লকডাউন। কারণ দ্বিতীয় দিনেও সবকিছুতেই ঢিলেঢালাভাব লক্ষ করা গেছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় অনেক যেমন দোকানপাট খোলা ছিল। তেমন গণপরিবহন ছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রায় সবধরণের পরিবহনই চলাচল করেছে। তবে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের লুকোচুরিও ছিল দেখার মতো। তাইতো পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট আসলেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শাটার ডাউন হচ্ছে। আবার চলে গেলেই খুলে যাচ্ছে শাটার। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা না মানায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১ জনের কাছ থেকে ৭ হাজার ৩শ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।
সরেজমিনে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করার বিষয়টি চোখে পড়েছে শহরের বিভিন্ন স্থানে। শহর ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু দোকানপাট খোলা রয়েছে, যেগুলো অত্যাবশ্যকীয় নয়। মিষ্টির দোকান, গাড়ির গ্যারেজ, লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন ধরণের দোকান-পাট খোলা দেখা যায়। তবে শহরের বড় মার্কেটগুলো যেমন, নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লাহ সিটি বন্ধ রয়েছে।
শহরের শহীদ আবুল কাশেম সড়ক এলাকার মিষ্টির দোকানের এক কর্মচারী জানান, ‘দোকানে বসে কাউকে খেতে দেওয়া হচ্ছে না। সবাই মিষ্টি ক্রয় করে সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান পরিচালনা করছি। রাস্তায় ইজিবাইকের সংখ্যাও ছিল বেশি। বাস ছাড়া অন্য সব পরিবহন চলাচল করছে রাস্তায়।’
প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মবর্তাগণ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি দোকান, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, জনসমাবেশ বন্ধ করা, বাজার মনিটরিং এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে দিনব্যাপী পুলিশের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। দিনব্যাপী ২১টি মোবাইল কোর্টে ২১ জনের কাছ ৭ হাজার ৩শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।