চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নামেই পৌরবাসী, তবে সমস্যা রাশিরাশি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আজকের স্পট: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ী-কুলচারা-দিগড়ী এলাকা
নাগরিকরা অভিযোগের সুরে বললেন, বর্তমান মেয়র খোকন মানুষের কষ্টের কথা আমলে নেন না
এম এ মামুন:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ি, কুলচারা ও দিগড়ী নানা সমস্যায় জর্জরিত। এই এলাকার মানুষ পৌরসভার মধ্যে বসবাস করলেও তাদের জীবনমান ইউনিয়নবাসীর চেয়ে খারাপ। এসব এলাকার জনসাধারণ নামেই পৌরবাসী, কিন্তু তাদের সমস্যা আছে রাশি রাশি। গত শনিবার বিকেলে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ি কুলচারা ও দিগড়ী এলাকায় সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে পৌরসভার উন্নয়ন চিত্র। এই ওয়ার্ডের সড়কগুলো সেই কবে যে পাকাকরণ করা হয়েছিল, সে কথা কারো মনে পড়ে না। এই এলাকার অধিকাংশ পাকা সড়ক এখন প্রায় কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। নেই ড্রেন, সে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙাচোরা সড়কগুলো ছোট ছোট ডোবা-নালায় পরিণত হয়। এমন অবস্থা যে, কেউ ইচ্ছে করলে এসব সড়কে মাছের চাষ বা আমন ধানের আবাদও করতে পারবেন।
দিগড়ীর এক চায়ের দোকানদার বেশ শুদ্ধ ইংরেজিতে বলল, মাঝে মাঝে আমি কনফিউজড হয়ে যায় আসলেই আমি কি পৌরসভায় বসবাস করি! শুধু চায়ের দোকানদার নয়, এলাকার ভুক্তভোগী পৌরবাসী দিগড়ীর ইমান হোসেন বললেন, ভোটের সময় ভোট নেওয়ার জন্য কত কথায় বললো, এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। আমরা পৌর কাউন্সিলর ও মেয়রের কাছে গেলেও কোনো কাজ হয় না।
বৃদ্ধ রহমান আলী বললেন, রাস্তাগুলো সব ভাঙাচোরা, চরম সমস্যায় আছি কেউ দেখে না। করিম নামের আরও এক পৌরবাসী বেশ ক্ষোভের সাথে জানালেন, ‘পৌরসভায় বসবাস করি, মনে হয় না এটা পৌরসভা। ভোটের সময় ভোট চেয়ে জনপ্রতিনিধিরা বলেছিলেন- এখানে মেরামত হবে, ওখানে মেরামত হবে, কই রাস্তার মেরামত তো হয়নি, আর ড্রেন তো নেই। কোথাও কোনো উন্নয়ন হলো না?
পৌরবাসী আরও জানালেন, এই ওয়ার্ডের কমিশনার উজ্জ্বল হোসেন। তিনি ওয়ার্ডের সব জায়গায় নিত্যদিন আসা-যাওয়া করেন। তিনিও আমাদের সমস্যা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান। আমাদের সমস্যাগুলো দিনদিন বাড়ছে।
সুরুজ ফার্মেসির তকিম জানাল, একই ওয়ার্ডের সাতগাড়ি বিলপাড়ায় আজও ড্রেন নেই। বৃষ্টিতে সড়ক হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। এই মহল্লাবাসী বর্ষাকালে চরম ভোগান্তিতে জীবনযাপন করে। তাঁদের দুঃখের কথা কাকে জানাবে তারা, মেয়র-কাউন্সিলর কেউ খোঁজ রাখে না। ৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে বহুজনের সাথে বহু কথার মধ্যে উঠে এলো পৌরসভার বর্তমান ও বিগত দিনের মেয়র এবং কাউন্সিলরদের নানা আচরণ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির কথা। সবার ক্ষেত্রেই কম-বেশি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা বলল নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে।
পৌর এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, যুগের পর যুগ যারায় ভোটের নেশায় আমাদের কাছে এসেছে, ভোট নিয়েছে, ভোট শেষে আমাদের এলাকার উন্নয়নের কথা ভুলে গেছে। অনেকের দাবি, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মধ্যে সব থেক অবহেলিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী। একজন জানালেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীদের উল্লেখিত অভিযোগ বর্তমান কাউন্সিলর উজ্জ্বল হোসেন স্বীকার করলেও পৌরসভার দীর্ঘ সময়ের জনপ্রতিনিধিত্বকারী সাবেক কাউন্সিলর বর্তমানের পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন এ অঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা খুব একটা আমলে নেন না।
একই অভিযোগ করলেন কাউন্সিলর উজ্জ্বল। তিনি সময়ের সমীকরণকে জানালেন, ‘আমি ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর নানা সমস্যা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মেয়র সাহেবকে সমস্যার কথা বলে জলাবদ্ধতা থেকে সড়কগুলোতে একগাড়ি ঘ্যাস বা কিছু দিয়ে সাময়িক সংস্কার করব, সে ক্ষেত্রেও সমস্যা। কারণ লেবার বা গাড়ি কিছুই পাইনে।’
তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন জানালেন, কাউন্সিলরের কথা ঠিক না। পৌর কাউন্সিলররা যার যখন প্রয়োজন, সে তখন পৌরসভার গাড়ি লেবার নিয়ে তার এলাকার জনসাধারণের সমস্যার সমাধান করতে পারে। এছাড়া পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে বর্তমান মেয়রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, উন্নয়ন হবে কেবল তো দায়িত্ব নিলাম। সমীকরণ থেকে প্রশ্ন করা হয়- সাত নম্বর ওয়ার্ডবাসীর মন্তব্য তারা বিশ্বাস করতে পারে না যে তারা পৌরসভায় বসবাস করে, আপনি কী মনে করেন? সমীকরণের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বললেন, সবেমাত্র ছয়মাস আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই করোনা সংকটে সকল অফিস আদালত বন্ধ ছিল। এখন পরিবেশ ভালো। আমরা কাজ শুরু করব। কী কাজ করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাতগাড়ির নবগঙ্গা ব্রিজ থেকে কুলচারা মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
প্রশ্ন করা হয় বাকি সড়কের কী হবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে হবে। তবে সমস্যার কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করে বললেন, উন্নয়ন হবে কী করে? সাত নম্বর ওয়ার্ডবাসীরা ঠিকমতো হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে না। পৌরসভার আয় না হলে উন্নয়ন কীভাবে? তবে সাতগাড়ি কুলচারা ও দিগড়ীবাসীর সব শেষে বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরের কাছে প্রাণের দাবি, অনতিবিলম্বে উল্লেখিত এলাকার বহুদিনের চিরচেনা সমস্যার সমাধান করে পৌরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হোক।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।