নামেই কঠোর লকডাউন : ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ!

39

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লকডাউনের প্রভাব নেই চুয়াডাঙ্গায়। নামমাত্র কঠোর লকডাউন বলা-বাহুল্য। শহরের পরিবেশ প্রায় স্বাভাবিক। শুধু চাপা ক্ষোভ সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, সবকিছুই খোলা, নামমাত্র লকডাউনে শুধুমাত্র তাঁরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ী নেতারা অবশ্য সরকারের সঙ্গে এখনো অব্দি একমত।
গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের পরিবেশ অন্য যেকোনো সময়ের মতোই প্রায় সাধারণ ও স্বাভাবিক। শহরের প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে ইজিবাইকের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। বড় বাজারে বেশ ভিড়ও পরিলক্ষিত হয়েছে। নিচের বাজার বিশেষত কাঁচাবাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। দেখে বোঝার উপায় নেই যে লকডাউন চলছে। প্রচুর ভিড় করে মানুষ কেনাকাটা করছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসার সময়ই কেবল জিনিসের সঠিক দাম, বাকি সময় বেশি দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ বহু ক্রেতার। মাছের ও মাংসের বাজারের পরিস্থিতিও প্রায় এক।
শহীদ হাসান চত্বরের ফলের বাজারের বিশেষ করে বিকেলের দিকে অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচুর ভিড় করে চলছে কেনাকাটা। সাধারণ মানুষেরা স্বাস্থ্যবিধি যেন মানতেই চাচ্ছেন না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসারের টহল বাড়লেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই। বড় বাজারে বড় গলির মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা দোকানের সামনেই বসে থাকছেন। ক্রেতা আসলে দোকানের শার্টার উঠিয়ে চলছে পণ্য কেনাবেচা।
অন্যদিকে, চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সমবায় নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, প্রিন্স প্লাজাসহ বড় বড় দোকান ও মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীদের মধ্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছেন, এই নামমাত্র লকডাউন চান না তাঁরা। বন্ধ করলে সব করতে হবে। লকডাউনের মতো লকডাউন দিতে হবে। আর না হলে, সবকিছু খুলে দিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করতে হবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে রাজি তাঁরা। অনেকেই দাবি করছেন, সবাই ব্যবসা করছেন। সবার সব কিছু হচ্ছে। শুধু কয়েকটি বড় মার্কেটের পোশাকের দোকানদাররা ঠকছেন। হচ্ছে না তাঁদের ব্যবসা। তবে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত মানতেও তাঁরা রাজি আছেন।