নামাজরত মুসল্লিদের গ্রেফতার চরম বাড়াবাড়ি : জামায়াত

সমীকরণ প্রতিবেদন:
রাজধানীর গুলশানের কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র থেকে ১৭ জনকে আটক এবং আদালত কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো: রেজাউল করিম। গতকাল নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের শাহজাদপুর এলাকার একটি কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র থেকে তারাবিহ নামাজরত ইমাম, দুই নারী ও শিশুসহ ১৭ মুসল্লিকে গুলশান থানা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে থানায় আত্মীয় স্বজন গেলে তাদের মধ্য থেকে আরো আটজনকে আটক করে পুলিশ। এটি দেশের নাগরিকদের আইনের শাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল। ইসলামিক সেন্টার থেকে আটককৃতদের বিশেষ ক্ষমতা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের গুলশান থানার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যা ইতিহাসের চরম হয়রানি ও নিপীড়নের উদাহরণ। পুলিশ পূর্বের মতোই বলে দিয়েছে তারা নাকি নাশকতার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পুলিশ দাবি করেছে জামায়াতের বইপুস্তকের সাথে সেখানে ককটেল পেয়েছে! এমন নির্লজ্জ মিথ্যাচারে দেশবাসী হতবাক। বিভিন্ন গণমাধ্যম ইতোমধ্যে ঘটনার বিষয়ে সবিস্তারে খবর ছেপেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এক নম্বর সাক্ষী রাসেল মিজি একটি জাতীয় পত্রিকাকে বলেছেন, ‘পুলিশ তাকে গত সোমবার রাত ১১টার দিকে ডেকে নিয়ে সাক্ষী করে। তিনি কিছু মানুষের জটলা দেখেছেন। কিন্তু কী ঘটেছে তা জানেন না। তবে পুলিশের কাছে শুনেছেন আটককৃতরা জামায়াতের নেতাকর্মী। তবে সেখানে তিনি কোনো ককটেল দেখেননি।’ এতেই প্রমাণিত হয় যে ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও পরিকল্পিত। নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ দাবি করছে তারা জামায়াত শিবিরের কর্মী। প্রশ্ন হলো জামায়াত শিবির কি তারাবির নামাজ পড়তে পারবে না? আইন অমান্য করে কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে গ্রেফতার মেনে নেয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র জামায়াত-শিবিরের সাথে জড়িত থাকার দায়ে নামাজরত মুসল্লিদের গ্রেফতার করা চরম বাড়াবাড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াত-শিবিরের সাথে জড়িত করে নিরীহ ও সাধারণ মানুষকেও গ্রেফতার করা হয়। অযথা কয়েক মাস জেলে থাকার মতো জুলুমের শিকার হন তারা। তাদের পরিবারে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানসিক কষ্ট। সরকার ও প্রশাসনকে এহেন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আটককৃত মুসল্লিদের মধ্যে ওমরাহ হজ পালন করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া ছয়জন মুসল্লি রয়েছেন, যাদের হজ পালন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা অবিলম্বে আটককৃত সবার মুক্তিদান এবং হজ পালন করার সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে আটক আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। মানুষের মৌলিক অধিকার ভোগের সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানান।