চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাত-জামায় নই; নানার খুনি নাতনি!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ৬, ২০২১ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শামসুল শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধর ঘাড়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার খুন হওয়া শামসুল শেখের নাতনি কামনা খাতুন নিজ নানাকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ শামসুল শেখের নাতনি কামনা খাতুন তাঁর বিবাহের পরে রাশেদ নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পূর্বে কামনার সঙ্গে তার স্বামী জাহিদ হাসানের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে কামনা নানা ও নানীর সঙ্গে থাকতে শুরু করে। এরই মধ্যে কামনার পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে জানতে পেরে যায় বৃদ্ধ শামসুল শেখ। এ ঘটনায় শামসুল শেখ কামনাকে বকা-বকি করলে সে তাঁর পরকীয়া প্রেমিক রাশেদের সঙ্গে যুক্তি করে নিজ নানা শামসুল শেখতে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত (২৯ নভেম্বর) সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে শামসুল শেখ বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকাকালীন একটি বিষ ভর্তি ইনজেকশন নিয়ে সেখানে হাজির হয় কামনার পরকীয়া প্রেমিক রাশেদ। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশেদ শামসুল শেখের পা চেপে ধরে ও কামনা ইনজেকশনটি তার নানার ঘাড়ে পুশ করে। এসময় শামসুল শেখের ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে রাশেদকে পালাতে দেখে। কিন্তু অন্ধকার থাকায় রাশেদকে তাঁর নাত-জামায় জাহিদ হাসান ভেবে চিৎকার করে। এবং তার গলায় জাহিদ হাসান ইনজেকশন ফুটিয়ে পালিয়েছে বলে জানায়। সেদিন রাতেই পরিবারে সদস্যরা শামসুল শেখকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ ডিসেম্বর বুধবার সকাল আটটার দিকে বৃদ্ধ শামসুল শেখের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পরে নিহত শামসুল শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জাহিদ হাসানকে আসামী করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাত-জামায় জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হত্যা ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ খুন হওয়া শামসুল শেখের নাতনি কামনাকে আটক করে। পরবর্তীতে কামনা তার পরকীয়া প্রেমের কারণে প্রেমিক রাশেদকে সঙ্গে নিয়ে নিজ নানাকে খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়টি স্বীকার করে। গতকাল কামনা তার পরকীয়া প্রেমিক রাশেদকে জড়িয়ে নিজ নানাকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে ঘাড়ে বিষ প্রয়োগ করে শামসুলকে হত্যা মামলার পর থেকেই সদর থানা পুলিশের টিম ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে কাজ করছিল। এরই মধ্যে একটি সূত্র ধরে আমরা কামনা খাতুনকে আটক করি। পরবর্তীতে খুনের সঙ্গে জড়িত কামনার পরকীয়া প্রেমিক রাশেদের নাম সামনে আসলে তাকেও আটক করা হয়। আজ (গতকাল) দুপুরে কামনা খাতুন তাঁর প্রেমিক রাশেদকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারা মোতাবেক চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলামের আদালতে সামসুল শেখকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।