নব্বই দশকের ছাত্র নেতারাই এবার সরব!

105

দর্শনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে হাফ ডজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী
আওয়াল হোসেন:
দর্শনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে দর্শনা সরকারি কলেজের নব্বই দশকের ছাত্র নেতারাই পৌর এলাকায় বেশি সরব হয়েছেন। এরমধ্যে অনেকই নিজ দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন নানা মহলে দৌঁড়ঝাপ। নিজ নিজ দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তাঁরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রায় হাফ ডজন নেতা ইতিমধ্যেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। অথচ ভোটের বাকী আছে এখনো অনেক দিন। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় হাফ ডজন নেতার মধ্যে প্রায় সবাই নব্বই দশকের মাঠ কাপানো ছাত্র নেতা। যেমন দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের দু-দুবারের সাবেক ভিপি ও জিএস আবু সাঈদ মো. হাসান, দর্শনা সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহ মুকুল ও দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান দর্শনা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট এবং দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আশকার আলী। এছাড়া দর্শনা পৌরসভার বর্তমান পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানও একজন সাবেক ছাত্রনেতা। তবে দলীয় মনোনয়নের উপর নির্ভর করছে, এ সকল ছাত্র নেতাদের মধ্যে কে কে মেয়র প্রার্থী হবেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দর্শনা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেবারও নব্বই দশকের দুই ছাত্র নেতা মতিয়ার রহমান ও আশকার আলীর মধ্যে লড়াই হয়। সেই লড়াইয়ে অবশ্য দর্শনা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মতিয়ার রহমান বিজয়ী হয়ে পৌর পরিষদের দায়িত্ব নেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে দর্শনা পৌর এলাকায় মোট ভোটার ছিলো ২৪ হাজার ১৯৫ জন। সেবার ১৮ হাজার ২৮৫ ভোট পোল হয়েছিল। যার মধ্যে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ১১ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আশকার আলী পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৪৫৯ ভোট। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী মহিদুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ২৭ ভোট পান। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে ২০২০ সালে দর্শনা পৌরসভায় মোট ভোটার ২৮ হাজার ৬৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৩ হাজার ৮৬০ জন এবং নারী ভোটার ১৪ হাজার ২০৮ জন। তার মানে বিগত ৫ বছরে নতুন ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭৩ জনে। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে এই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে। তবে শেষপর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো কাকে মনোনয়ন দেবে এবং সাধারণ ভোটাররা কাকে পৌর পিতা হিসেবে বেছে নেবেন, তার জন্য বেশ কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।