নতুন নতুন কোম্পানি আসছে ভার্চুয়াল মার্কেটে

47

বাড়ছে ই-কমার্সের পরিধি
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সময়ের সাথে সাথে এখন সবকিছুতেই লেগেছে প্রযুক্তির ছোয়া। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অফিসের কার্যক্রমসহ সবই চলছে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। ব্যতিক্রম নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ব্যস্ততম নগরীর জীবনকে প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কাজ করছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে করোনাকালে লকডাউনের সময়ে ঘরবন্দি মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার, ওষুধ, খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে আস্থা অর্জন করেছে এই খাত। বিগত অর্ধযুগ ধরে ই-কমার্স যতটা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, করোনায় ছাড়িয়ে গেছে সেটিকেও। এছাড়া মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলেছে অনলাইন কেনাকাটায়। এর সুফল পাচ্ছে ই-কমার্স খাত। গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হচ্ছে অনলাইন ব্যবসায়।
ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স মার্কেটের আকার ছিল ৫৬০ কোটি টাকা, পরের বছর সেটি দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬৩২ কোটি, ২০১৮ সালে ১০ হাজার ৫০৪ কোটি, ২০১৯ সালের ১৩ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। আর করোনাকালে গত বছরে এটি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। শুধু পণ্য কেনাকাটায় নয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই এখন চলছে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন অনলাইনে, পরীক্ষাও চলছে ডিজিটাল মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবায়ও ব্যবহার হচ্ছে টেলিমেডিসিন। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের রোগীরা এখন রাজধানীসহ বড় বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে অনলাইনেই যোগাযোগ করছেন, নিজের সমস্যা তুলে ধরছেন, সমাধান নিচ্ছেন ভার্চুয়াল মাধ্যমেই। মন্ত্রী সভার বৈঠক থেকে শুরু করে বড় থেকে ছোট প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলো হচ্ছে অনলাইনে। একইভাবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্ট, চলাচলের ক্ষেত্রে রাইড শেয়ারিং সবগুলোরই ব্যবহার বেড়েছে।
ধীরে ধীরে ব্যাংকিং, লজিস্টিক কমিউনিকেশন এবং পেমেন্ট মেথডের উন্নতির হাত ধরে ই-বিজনেস সেক্টরটির উন্নয়নের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষ করে ব্যাংকিং ক্ষেত্রটি ইন্টারনেট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছে। গ্রাহকদের কাছে এখন ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট আরও বেশি সহজলভ্য হওয়ায় ক্যাশ অন ডেলিভারির (সিওডি) পরিসরও বাড়ছে। ই-কমার্সের গ্রোথ সম্পর্কে চালডালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) জিয়া আশরাফ বলেন, গত কয়েক মাসে ই-কমার্সে প্রায় শতভাগ গ্রোথ হয়েছে। এটা এই শিল্পের জন্য ইতিবাচক। আশাকরি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এই গ্রোথটা থাকবে। কারণ, মানুষের এখন অভ্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে। ঘরে বসেই সব পাচ্ছেন। তাহলে কষ্ট করে কেন আর বাইরে যাবেন।