চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন করে ডুবছে নিম্নাঞ্চল

সিরাজগঞ্জ-দিনাজপুরে অবস্থার আরও অবনতি, তিস্তা-ধরলা পাড়ে ভাসমান জীবন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২, ২০২২ ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েক স্থানে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নদ-নদীর পানিও বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রামসহ কয়েক অঞ্চলে নতুন করে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পাশাপাশি তিস্তা ও ধরলা পাড়ে মানুষ এখনো ভাসমান জীবন অতিবাহিত করছেন।
সিরাজগঞ্জ:
যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কাজিপুর পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে নতুন করে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে মানুষের চরম দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। পানিতে ঘরের নিম্নাংশ তলিয়ে যাওয়াসহ আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বন্যাকবলিতরা। রাস্তাঘাট স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় চলাচলেও দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ঘা-পাঁচড়া দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, পানি আর এক-দুই দিন বাড়বে। তারপর কমে যাবে।
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখনো ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্র্তিত রয়েছে। স্থানীয় পাউবো গতকাল বিকালে জানায়, ধরলা নদীর সেতু পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এসব নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসমূহে এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এ ছাড়াও তিস্তা, দুধকুমর ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার কুড়িগ্রাম সদরসহ নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী এ তিন উপজেলার ৫০টি চর ও দ্বীপচরের নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। নতুন করে ওইসব এলাকায় ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নেই ধরলার অববাহিকায় অন্তত ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ দ্বিতীয় দফায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পার্শ্ববর্তী পাঁচগাছী ও হলোখানা ইউনিয়নসহ ধরলা ও দুধকুমরের অববাহিকার ইউনিয়নগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকাতেই অন্তত ২০ হাজার মানুষ নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। তিস্তা নদী ও ধরলা নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে।
লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটে নিজ ঘরে ফিরতে না পারা বানভাসি মানুষের জীবন কাটছে ভাসমান অবস্থায়। এখনো ডুবে আছে তাদের ঘরবাড়ি। তাই তাদের আশ্রয় হয়েছে নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ও অন্যের বাড়ি এবং ওয়াপদা বাঁধের ওপর। কাটছে দুর্বিষহ জীবন। এদিকে ওঠানামা করেছে পানি। উঁকি দিচ্ছে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগব্যাধি। গতকাল বিকাল ৩টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ৫২.২৭ মিটার, কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ২৮.৯৭ মিটার, ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী পাঁচটি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার পরিবারগুলো পানিবন্দি আছেন।
নেত্রকোনা:
নেত্রকোনায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও বেশির ভাগ এলাকা এখনো ডুবে আছে। কোনো কোনো উঁচু বাড়ির পানি নেমে উঠান পর্যন্ত এসেছে। অন্যান্য এলাকাতেও একই অবস্থা। কলমাকান্দা উপজেলার উব্দাখালি নদীর পানি কমছে আবার বাড়ছে। উব্দাখালি নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গতকাল আবার ৩৬ সেন্টিমিটারে নামে। এভাবে দুই সপ্তাহ ধরে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর পানিও বেড়ে বিপৎসীমার ওপরেই রয়েছে। ফলে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমছেই না। বাড়ছে পানিবাহিত রোগবালাই।
দিনাজপুর:
উজানে বৃষ্টিপাত ও ওই বৃষ্টির পানি নেমে আসায় দিনাজপুরের প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল দুপুরে তা কমে এসেছে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি প্রবাহ আরও কমে যাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়। অবশ্য হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। খানসামার আত্রাই সেতু পাড়ে দেখা গেছে, নদীর পানি বাড়ায় চিন্তিত নদীপাড়ের মানুষ। খানসামা উপজেলার চাকিনীয়া ঠুটির ঘাট, শুড়িগাঁও, আগ্রা দুপরুরঘাট, আশার ডাঙ্গা, গুলিয়ারা শিবতলা, জোয়ার, কালীর বাজার, কায়েমপুর, জোয়ার, নেউলা, গোবিন্দপুরসহ কয়েক এলাকায় নদীভাঙন ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন আত্রাই নদী তীরবর্তী ওইসব এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি কমে যাবে।
সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। জেলার উঁচু এলাকার রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি থেকে পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলে এখনো মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। টানা ১৭ দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।