চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৩ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন আইন আসছে, সরকারি কেনাকাটা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ১৩, ২০২২ ২:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপুল পরিমাণ কেনাকাটায় নজরদারি করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এসব সরকারি ক্রয়ে বিস্তর দুর্নীতি-অপচয়ের অভিযোগ থাকলেও তা ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ কারণে সরকারি তহবিলের অর্থ দ্বারা কোনো পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করা লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) থেকে এরুপ বিধান অর্ন্তভূক্ত করে আইনের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দিয়েছে। এ সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উথাপন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলে জানা গেছে। এ আইনের খসড়াটি গত ২০০৬ বিএনপি সরকারে আমলে করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত পাস করতে পারেনি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও বিধি মালা ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনাসহ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এমন কথা থাকলে ও তা বর্তমান সরকার আইনটি পাস করতে পারেনি। তা এবার পাস করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংকের চাপে আইনটি দ্রæত পাস করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকার সরকারি তহবিলের অর্থ দ্বারা কোন পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করা লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি নামে নতুন আইনটি আগের তবে বিশ্বব্যাংকের চাবে এটি পাশ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব স্বাক্ষরিত পাঠানো আইনের সার-সংক্ষেপে বলা হয়, সরকারি তহবিলের অর্থ দ্বারা কোন পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করা এবং উক্তরূপ ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তির প্রতি সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করিবার জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) আইন, ২০১৯-এর খসড়ায় র্র্কতৃপক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারি তহবিলের টাকা দিয়ে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তির প্রতি সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রণ এবং এই উদ্দেশ্যে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা বাড়ানো ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টির জন্য এই র্র্কতৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন। এই র্র্কতৃপক্ষ সিপিটিইউর চেয়ে অধিকতর ক্ষমতা পাবে।
সরকারি কেনাকাটায় কোথাও আইন লঙ্ঘন বা অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা গেলে র্র্কতৃপক্ষ প্রয়োজনে নথি তলব করতে পারবে। এ বিষয়ে খসড়া আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, যেসব ক্রয়কারীর ওপর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ প্রযোজ্য, তাদের কাছ থেকে সরকারি কেনাকাটার তথ্য, দলিল ও নথিপত্র তলবের ক্ষমতা থাকবে বিপিপিএর। কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলো সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে তলব করা নথিপত্র পর্যালোচনা করতে পারবে। সরকারি কেনাকাটায় কোনো আইন ও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশোধন করে কোনো ক্রয়কারীকে ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন বা সংশোধন করার পরামর্শ ও সুপারিশ বা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারবে।
খসড়া আইন অনুযায়ী, বিপিপিএর একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন পরিকল্পনামন্ত্রী। র্র্কতৃপক্ষের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান থাকবেন, যিনি সরকারের গ্রেড-১ ভুক্ত পদমর্যাদা বা সচিব মর্যাদার হবেন। এই র্র্কতৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর প্রতিপালন নিয়ন্ত্রণ, পরিবীক্ষণ, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত¡াবধান করবে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনাসহ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এডিপির আকার ছিল ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর মূল এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এডিপি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল অর্থের পণ্য ও সেবা কিনতে হয় সরকারকে। নিজ নিজ প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়গুলো এসব পণ্য ও সেবা কিনে থাকে। এখন এসব কেনাকাটার তথ্য রাখার কাজ করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। অধিকতর ক্ষমতাসম্পন্ন বিপিপিএ গঠন হওয়ার পর সিপিটিইউ বিলুপ্ত হবে। তবে সিপিটিইউর জনবল বিপিপিএতে ন্যস্ত হবে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপুল পরিমাণ কেনাকাটায় নজরদারি করার জন্য কোনো র্র্কতৃপক্ষ নেই দেশে। ফলে সরকারি ক্রয়ে বিস্তর দুর্নীতি-অপচয়ের অভিযোগ থাকলেও তা দেখার নেই কেউ। অবশেষে সরকারি কেনাকাটায় নজরদারির জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) নামে একটি র্র্কতৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য আইনের একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। খসড়াটি চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
সরকারি কেনাকাটার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অপচয়-দুর্নীতি রোধে পৃথক একটি র্র্কতৃপক্ষ গঠনের জন্য সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে চিঠি দেন তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, সরকারি কেনাকাটায় শৃঙ্খলার স্বার্থে একটি নির্দিষ্ট বিভাগ থেকে সব ধরনের কেনাকাটা করা যেতে পারে। এতে কেনাকাটার অনিয়ম দূর করাসহ সরকারি কেনাকাটায় দীর্ঘ সময় ব্যয়ও রোধ করা সম্ভব হবে। তার পর থেকেই বিপিপিএ গঠনের উদ্যোগ নেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।