চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নকল পেঁয়াজের বীজে সয়লাব মাঠের পর মাঠ

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৫, ২০২০ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পূরণ হবে না উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাপক ক্ষতির মুখে চাষিরা
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুর সদর উপজেলার কোলা গ্রামে নকল পেঁয়াজের বীজ বপন করে কপাল পুড়েছে কৃষকদের। কয়েক শ একর জমিতে নকল বীজ বপন করে দিশেহারা এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, গাছের আকারও বড় হয়েছে, কিন্তু কোনো ফলন চোখে পড়ছে না। এতে কৃষককে ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা।
কৃষকেরা জানান, মেহেরপুর সদর উপজেলার কোলা গ্রামের শতাধিক চাষি একই উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জনৈক রবজেল নামের এক ভ্রাম্যমাণ বীজ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নকল সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন। আসল সুখসাগর জাত, ভালো ফলন হবে রবজেলের এমন চটকদার প্রচারে আশায় বুক বাঁধেন এলাকার কৃষকেরা।
কোলা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এক নাগাড়ে কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের আবাদ করছি। ফলনও আশানুরূপ পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। কিন্তু এই বীজে ফলন কয়েকগুন পাওয়া যাবে, রবজেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে বীজ কিনে প্রতারিত হলাম। আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বীজ বপন করে অন্যদের পেঁয়াজ ৫০-১০০ গ্রাম ওজনের হয়ে গেছে। কিন্তু রবজেলের বীজে তিল পরিমাণ গুটি আসেনি। আমার মতো কয়েক শ কৃষক বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজের বীজ বপন করে পথে বসতে চলেছে।’
রহিদুল নামের একজন কৃষক বলেন, ‘সুখসাগর পেঁয়াজ চাষে অন্য বছর ভালো ফলন হওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। এ কারণে চলতি বছর আমি তিন বিঘা জমিতে রবজেলের পরামর্শে তাঁর কাছ থেকে বীজ কিনে বপন করি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ফলন দেখছি না। এতে আমার বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।’ কৃষকদের দাবি, এভাবে এলাকার কৃষকরা ওই বীজ বপন করে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে দিতে হবে রবজেলকে। তা না হলে দায়-দেনা করে পেঁয়াজ উৎপাদনে নামা প্রান্তিক কৃষক পথে বসবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কোলা এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষকের মধ্যে অধিকাংশ সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ বপন করেছেন। কোলা গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মো. মোস্তফা, আ. কুদ্দুস, ফরিদুল, হায়দার, মনিরুল, হাবিবুর, ছালাম, সাইদুল, ফারুক, আসাদুল, বজলু, মশিউর, সুজন, মইনদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অধিকাংশ পরের জমি লীজ নিয়ে, গরু বিক্রি করে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। এছাড়া সার, বিষ বাকি করে নিয়ে খেতে ব্যবহার করেছি। একদিকে নকল বীজ অন্যদিকে ধার-দেনা, জমির লিজ খরচ, মানুষের কাছে ধার-দেনা আমরা কীভাবে কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের এই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কয়েক গুন ফলনের কথা বলে কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন রবজেল। এখন রবজেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে ফোন ধরে না আবার বিভিন্ন তালবাহানা করছে আমাদের সাথে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, ‘কোলা গ্রামে কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন করে দেখেছি এলাকার কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই বীজগুলো আসল সুখসাগর বীজ নয় বুনো বললেই চলে। আমরা পেঁয়াজ গাছ তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছি। কোলা ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার কৃষক নকল বীজ কিনে প্রতারিত হয়েছেন।’
এ বিষয়ে রবজেল জানান, ‘বীজ তো আমি দিয়েছি। বীজগুলো ভালো হয়নি তাই ফলন হয়নি। চাষিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাদের সাথে আমি একটা মীমাংসায় বসব।’ কোন জাতের বীজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুখসাগর পেঁয়াজ বলেই দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখছি সুখসাগর পেঁয়াজ না।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।