নকল ও ভেজাল ওষুধ : প্রশাসনের বোধোদয় প্রশংসাজনক

367

স্বাস্থ্য ডেস্ক: নকল ও ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে অবশেষে কুম্ভকর্ণের ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন ওষুধ প্রশাসনের কর্তারা। ভেজাল ওষুধ তৈরির অভিযোগে তারা ২০টি ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি কোম্পানির কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বাদ বাকি লাইসেন্সধারী তিনটি কোম্পানির অস্তিত্বই খুঁজে পাননি তারা। একটি কোম্পানির ঠিকানা খুঁজে পেলেও ওষুধ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি না থাকায় সেখানে সিলগালা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। লাইসেন্স বাতিলকৃত সব প্রতিষ্ঠানের ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছে ওষুধ প্রশাসন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা অবশ্যই একটি ভালো খবর। তবে অস্তিত্ব নেই বা ওষুধ তৈরির যন্ত্রপাতি নেই এমন কোম্পানি ওষুধ তৈরির লাইসেন্স পেল কীভাবে সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতিকে জানানোর চেষ্টা করা হয়নি। স্বাধীনতার পর ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়েছে। পরাধীনতার যুগে ওষুধের ক্ষেত্রে দেশ ছিল প্রায় পুরোটাই পরনির্ভর। এখন বাংলাদেশের ওষুধ শতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে এ দেশের ওষুধ। এটি দেশের জন্য গর্বের হলেও ওষুধ নিয়ে লজ্জার উপাদানও কম নয়। দেশে ওষুধের নামে যা বিক্রি হয় তার এক বড় অংশই নকল ভেজাল। ওষুধ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরকে ম্যানেজ করে নকল ভেজালকারীরা তাদের দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের গরিব এবং গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষ নকল ভেজাল ওষুধের কুশীলবদের দ্বারা প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে। অসৎ চিকিৎসক ও হাতুড়ে ডাক্তাররা লোভনীয় উেকাচের বিনিময়ে নকল ভেজাল ওষুধ তাদের ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছেন। রোগমুক্তির বদলে মৃত্যুর ঝুঁকিকে সাধারণ মানুষ বরণ করছে অর্থের বিনিময়ে। ওষুধ প্রশাসনের যোগসাজশ না থাকলে নকল ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করা কতটা সম্ভব তা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। নকল ভেজালের বিরুদ্ধে তাদের জেগে ওঠার ঘটনা প্রশংসাজনক হলেও তা যাতে আইওয়াস না হয়ে দাঁড়ায় সে দিকেও সংসদীয় কমিটিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।