চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৭ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধারদেনায় চলছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৭, ২০২২ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হলেও রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ধারদেনা করেই চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১১ কোটি টাকা আবার খেলাপি হয়ে গেছে। করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। দেখা গেছে, মহামারির দুই বছরে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কার্যক্রম চালাতে নতুন করে আরও প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০০২’-এ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থার কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে। কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের তথ্যই সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল পরিমাণ ঋণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দীর্ঘদিন বকেয়া পড়ে থাকায় রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া ওই অর্থ বিনিয়োগের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এসব ঋণের বিপরীতে সময় সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাগুজে বন্ড দেওয়া হলেও এর সুদের হার আমানতের সুদের হারের তুলনায় কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম সারির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এর বিপরীতে সরকার ব্যাংকগুলোকে বন্ড দেয়। তবে ব্যাংক যে ঋণ দেয় তা গ্রাহকের আমানতের অর্থ। এর পরিচালন ব্যয় বেশি। বন্ডের বিপরীতে সুদের হারও কম। এ কারণে আমরা একাধিকবার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছি, আমানতের অর্থ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। মূলধন কমে যাচ্ছে।’  

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে বিপিডিবির কাছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা ৮ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান বিএডিসি, যার ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। শীর্ষ ঋণ গ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন-বিসিআইসির ৭ হাজার ৯৯৮ কোটি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন-বিএসএফআইসির ৭ হাজার ৪৭৮ কোটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ-বিবিসির ৫ হাজার ২৫৫ কোটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির ৫ হাজার ৬৬ কোটি, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির ১ হাজার ৪৭ কোটি ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন- বিজেএমসির ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট ও বিআইডিএসের মহাপরিচালক এম কে মুজেরি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি ও ব্যাংক ঋণে চলছে। এর মধ্যে বিপিডিবি, টিসিবির মতো কিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে তাদের ভর্তুকি ও ঋণ সহায়তা দরকার। তবে বিজেএমসির মতো কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের বছরের পর বছর ঋণ সহায়তা দিলেও তা পরিশোধের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা, ট্রেড ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি করে অধিক জনবল নিয়োগ, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বছরে পর বছর লোকসানি রয়ে গেছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো কত দিন ধারদেনা আর ভর্তুকিতে চালানো হবে সে বিষয়ে সরকারের একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরকারের অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।