চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৬ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ভারতের ধর্মগুরু সহিংসতায় নিহত অন্তত ৩০

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৬, ২০১৭ ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ ডেস্ক: ধর্ষণের মামলায় ভারতের ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ঘোষণার পর তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকূলা শহরে এ ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এই শহরে অবস্থিত সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আদালত শুক্রবারই গুরমিত রাম রহিম সিংকে ধর্ষণের মামলায় দোষী ঘোষণা করেছেন। আগামী সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে স্থানীয় পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, রাম রহিমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর পঞ্চকূলা শহরে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। তবে নিহত ব্যক্তিদের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পঞ্চকূলা বেসামরিক হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের দেহে গুলির আঘাত রয়েছে। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের আলোচিত ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে রাম রহিমের সাত বছরের কারাদ- হতে পারে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন রাম রহিম। দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ এরই মধ্যে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। একটি হেলিকপ্টারে করে আদালত থেকে তাঁকে রোহতাক কারাগারে নেওয়ার কথা রয়েছে। ২০০২ সালে রাম রহিমের এক সাবেক নারী অনুসারী এ মামলা করেছিলেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় দেরা সাচা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করেন। বর্তমানে পঞ্চকূলা শহরে সান্ধ্য আইন জারি আছে। শুক্রবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পুরো পঞ্চকূলা শহরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ধর্ষণের মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার পর তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে আজ শুক্রবার পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। ছবি: এএফপিরায় ঘোষণার পরপরই রাম রহিমের হাজার হাজার অনুসারী বিক্ষোভ করতে গিয়ে সহিংস হয়ে ওঠেন। তাঁরা বিভিন্ন যানবাহন ও সরকারি অফিসে ভাঙচুর চালান। এ ছাড়া পঞ্চকূলা শহরের কিছু আবাসিক কলোনিতেও ভাঙচুর চালানো হয়। শহরের একটি পেট্রলপাম্প ও পাঁচতারকা হোটেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শহরটির তিন নম্বর সেক্টর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ওই এলাকাতেই সিবিআইয়ের আদালতটি অবস্থিত। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুরু কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। ভারতের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাম রহিমের শতাধিক অনুসারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে। সংঘর্ষে কমপক্ষে একজন সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধু পঞ্চকূলা নয়, পাঞ্জাবেও ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। ওই রাজ্যের মালৌত শহরে একটি রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই রাজ্যের মানসা শহরে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং দুটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রায় শোনার জন্য গত কয়েক দিন ধরেই রাম রহিমের অসংখ্য অনুসারী পঞ্চকূলায় জমায়েত হতে থাকেন। গতকাল মধ্যরাতে এই ‘ধর্মগুরু’ এক ভিডিও বার্তায় তাঁর অনুসারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অনুসারীদের প্রতি শান্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছিলেন। ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধে দোষী ‘ধর্মগুরুদের’ তালিকায় সাম্প্রতিকতম সংযোজন এই রাম রহিম সিং। আসারাম নামের আরেক ধর্মগুরু ও তাঁর ছেলে বর্তমানে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে আছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।