ধর্ষণের প্রমাণ না মিললেও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যত নাটক!

391

দামুড়হুদা উজিরপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদা উজিরপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে মেমজান বেগম ওরফে মেমি নামের এক নারীকে ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া যায়নি এখনও। তবে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে (মহিলা) সাধারণ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনটানি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর নিছক নাটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আজ মেমির স্বামী বোরহান উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানানো হয়েছে। মামলা না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারী পরীক্ষাও করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উজিরপুর গ্রামের স্থানীয় বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘শনিবার রাত ১২টার দিকে মেমির বাড়ি থেকে ডাকচিৎকার শুনে আমরা ছুটে যায়। সেখানে গিয়ে শুনতে পায় কে বা কারা তার স্বামীকে ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। পরে মেমির স্বামী ও ছেলেদের সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনা এবং উদ্ধারের সময় কাউকে দেখতে পাইনি আমরা।’
ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, গত শনিবার দিনগত গভীর রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত আড়াইটার দিকে ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপায়ালে ভর্তি করলে কিছুক্ষন পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। পরে ধর্ষণের বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে তার স্বামী ডাক্তারকে জানায়। তবে মামলা না হওয়া পর্যন্ত তাকে মেডিকেল টেস্ট করা যাবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
এদিকে এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা জন্য মামলা করতে পারছেন না বলে জানায় ভিকটিমের পরিবার। এরআগে দামুড়হুদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে পুলিশ ফিরিয়ে দিয়েছে বলে আভিযোগ করেন মেমির পরিবার। এ কারণে তারা মামলা করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন বলেন, ‘একটা বিষয়ে আপনারা কেন এত ফোন দিচ্ছেন?’ পরে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলার উপরে আপনার কেন এত ইন্টাররেস্ট?’ এমন কথা বলার কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। পরে তিনি এক পর্যায়ে বলেন, ‘মামলা সবাই করতে পারবে। আমরা তদন্ত করবো বিষয়টা।’ তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা বা অভিযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
নির্যাতনের শিকার নারী মেমজান বেগমের অভিযোগ, ‘চুয়াডাঙ্গার রিয়াজুল ইসলাম এবং আনন্দ মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেনদের কাছ থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় আড়াই শতক (২.৫) জমি কিনি আমরা। সেই জমিতেই বর্তমানে আমাদের বসবাস। একই পাড়ার আবুল মালের ছেলে আশরাফ মাল (৪৮) ওই জমির কিছু অংশের শরীক বলে দাবি করে নিজেকে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে এবং মামলা মোকাদ্দমাও হয়েছে। এ বিরোধ নিয়েই আশরাফ মালসহ একই এলাকার হাশেম খলিফার ছেলে জাহিদুল (৩২), মুক্তার মন্ডলের ছেলে ইনসান (৪৫), জান আলীর ছেলে হাফিজুল (৩৫) ও শমসের আলীর ছেলে আজমত আলী (৩২) তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে।
তিনি বলেন, ‘গত শনিবার দিনগত রাতে আমি ও আমার স্বামী বোরহান উদ্দীন ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে আশরাফ মালসহ ৫ জন লোক ঘরে ঢুকে আমার স্বামীকে জাপটে ধরে। আর আমাকে টেনে হেচড়ে বাড়ির পাশের মাঠের মধ্যে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ইনসান ও হাফিজুল আমার দু’হাত ঘাড়ের সাথে বেধে ফেলে। আকমত ও আশরাফ তখন পাশে দাড়িয়ে ছিল। এরপর জাহিদুল আমাকে ধর্ষণ করে; যা আমার মনে আছে। এরপরই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তারপর আমার পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’
এ ব্যাপারে আশরাফ আলী বলেন, ‘দামুড়হুদা থানাধীন ৬৭ নং উজিরপুর মৌজার ১৫০৪ নং দাগের মোট ১৩ শতক জমির মধ্যে আড়াই শতক (২.৫) জমি নিয়ে গ্রামের বোরহান উদ্দিনের স্ত্রী মেমির সাথে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তি না করেই সেখানে ঘর তুলেছে তারা।
সম্প্রতি গ্রামের আশরাফ আলী উজিরপুর গ্রামের মেমিসহ তিনজনের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডিতে বলা হয়, মেমি তার স্বামী বোরহান উদ্দিন ও মেমির ছেলে সোহেল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলীর জমি বেদখল করার জন্য আশরাফ আলী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়াও আশরাফ আলীর জমির ১৫টি বাঁশ জোর করে কেটে নিয়েছে মেমির পরিবারের সদস্যরা। এমনকি আশরাফ আলীকে হত্যারও চেষ্টা করে তারা। এসব ছাড়াও মেমি সরকারি জমি প্রাচীর দিয়ে নিজের দখলে নিয়েছে। গ্রামের কেউ মেমির অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ করার মামলা দেবে বলে হুমকি দেয় মেমি। এ অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গ্রামবাসি।
হাশেম খলিফার ছেলে জাহিদুল বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দামুড়হুদা থানায় আমরা একটা মামলা করতে যায়। থানার এসআই মহিউদ্দীন আমাকে বলেন- ‘আপনি একটা বড় ব্যবসাদার। আপনি এই ঝামেলার মধ্যে যেয়েন না। ওই মহিলা মাঠে পড়ে থাকবে; তারপর আপনার নামে রেফ কেস দেবে।’ তারই ঠিক তিনদিন পর ওই মহিলা এ ঘটনা ঘটায়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো নাটক।”
সরেজমিনে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মাঠপাড়ার বোরহান উদ্দিনের স্ত্রী মেমির দাপটে অস্থির হয়ে পড়েছে গ্রামবাসি। গ্রামের অনেকের নামে মেমি একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ তুলে হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডি করার পর থেকে মেমি আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।