ধর্ষকের কঠিন শাস্তিই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে

194

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষককে র‌্যাব খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। গত রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকার ঘটে যাওয়া সেই ধর্ষণের তিন দিন পর বুধবার ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষক মজনুকে ইতোমধ্যে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘মজনু নামের সেই ধর্ষক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। এর আগেও সে একাধিক ধর্ষণ করেছে। আগে তার অমানবিক কাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী নারীরা।’ এবার ঢাবির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তাকে হয়ত বিচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ধর্ষণ বিষয়টি একপ্রকার প্রতিকারহীনই বলা যায় মূলত সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধর্ষণের পরিসংখ্যানের আলোকে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নারীআন্দোলন কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বলেছেন: ‘বিচারহীনতার কারণে দেশে বাড়ছে ধর্ষণ। ধর্ষণের বিচার না হওয়ার কারণে দেশে পাশবিকতা দিন দিন বাড়ছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে।’ বেসরকারি সংস্থা নারীপক্ষ জানায়: ‘২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা, ঝিনাইদহ, জামালপুর, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে ৪৩৭২টি। অথচ এসব মামলায় সাজা হয়েছে মাত্র ৫ জনের। আর সারাদেশে এমন কয়েক লক্ষ মামলা নিষ্পত্তিহীন রয়ে গেছে।’ অথচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে করতে হবে, কিন্তু এই মামলাগুলো নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যত দ্রুততার সঙ্গে এই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে তা জনমনে স্বস্তি এনে দিলেও বিচার নিয়ে রয়েছে মানুষের অফুরান হতাশা। বছরের পর বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ধর্ষণগুলোর বিচারহীনতাই এই হতাশার কারণ। আমরা চাই, এক্ষেত্রে যেন আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় এবং অবিলম্বে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। তাতে যদি এই অমানুষগুলোর বোধে কোনো চৈতন্যর উদয় হয়। নতুবা পুরনো ঘটনাগুলোর মত এটি লালফিতায় বন্দি হলে সরকারে প্রতি মানুষের আস্থা কমে আসবে। মানুষ এখন ক্রমেই রাষ্ট্রের কাছে, সরকারের কাছে আশাবাদী হয়ে ওঠছে। আমরাও চাই এই আশার আলোকে যেন দেশে এই ধরণের জঘন্য নিকৃষ্ট অপরাধ কমে আসে।