চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৯ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৯, ২০১৭ ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা এমন এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। বরং এই বর্বরতায় স্তম্ভিত পুরো সমাজ। বর্বর মানসিকতাসম্পন্ন এক শ্রেণির মানুষের লাম্পট্যের শিকার অসহায় নারী ও শিশুরা। লম্পটরা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, তারা ভিকটিমকে হত্যা পর্যন্ত করছে। মাত্র চার বছর বয়সী একটি শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনা কোনো সভ্যসমাজের নজির হতে পারে না। এ ছাড়া বগুড়ায় নির্যাতিতের মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে ক্ষমতার চরম দাপট দেখিয়েছে ধর্ষকচক্র। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্ষণ একটি সামাজিক অপরাধ, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি দেশের আইনে ধর্ষকদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও এই বীভৎস আচরণ কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ধর্ষণের মাত্রা কতটা বেড়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সম্প্রতি প্রকাশিত পুলিশ সদর দফতরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখলেই তা স্পষ্ট হবে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ধর্ষণের মামলা হয়েছে এক হাজার ৯১৪টি। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মামলা হয়েছে এক হাজার ১০৯টি। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয়েছে ৯৮২টি। সেই হিসাবে চলতি বছরের গত তিন মাসে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ১২৭টি। ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে গড়ে মামলা হয়েছে ৩১৯টি। এই হিসাবে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিচারহীনতা একটি বড় কারণ। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অপরাধীরা ভয় পাবে। শুধু আইন করে কখনোই ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। এতে যত কঠোর শাস্তিরই বিধান থাক না কেন। তাই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে এই অপরাধ সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার। সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের চর্চা ধর্ষণের মতো অপরাধ নির্মূল করতে পারে। এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সমাজে যখন মাদক সহজলভ্য হয়ে যায়, পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বেড়ে যায়, তখন মানুষ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত থাকে। আর বিকারগ্রস্ত মানুষ যখন কোনো কাজ করে, সে বুঝতে পারে না, সে কী করছে বা এর পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধের ব্যাপারে যদি জিরো টলার‌্যান্স-নীতি গ্রহণ করে কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়, তাহলে হয়তো এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এর পাশাপাশি সব ধর্ষণ মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ অন্যদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। তবে শুধু শাস্তি দিয়েই সমাজ থেকে ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ করা যাবে না, বরং এ ব্যাপারে আরো সোচ্চার হতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।