চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৭ নভেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্মীয় মাহফিলের প্রভাব

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ১৭, ২০১৭ ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধর্ম ডেস্ক: শীতকালে আমাদের দেশে গ্রাম-গঞ্জে অসংখ্য ওয়াজ ও হেদায়েতি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব চোখে পড়ার মতো। মাহফিলকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে যে আবহ ও আবেদন তৈরি হয় তাতে সামাজিক অনাচার কিছুটা হলেও রোধ হয়। পতনোন্মুখ আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিকতার কিছু কথা মানুষের কানে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা না থাকলে এ সমাজ আরো অনেক আগেই পতনের অতলে হারিয়ে যেত। সমাজের যে সদস্যটি প্রতিটি মুহূর্ত অনৈতিক ভাবনা ও অবাঞ্ছিত কর্মকান্ডে লিপ্ত আছে তার কানে দীন-ধর্মের এ কথাগুলো কোনোভাবে ঢুকিয়ে দিলে তার অজান্তে হলেও মনের মধ্যে কিছুটা দাগ কাটবে। সে হয়তো রাতারাতি সঠিক পথের পথিক হয়ে যাবে না, কিন্তু তার ভেতরে ধর্ম ও নৈতিকতার যে আঁচড় লেগেছে তা কি সহজেই মিটে যাবে? গায়ের জোরে সাময়িকভাবে বিবেকের ধাক্কা সামলে উঠলেও এর সুদূরপ্রসারী দংশন থেকে কি বাঁচতে পারবে? কোনো মাহফিলের ছোট্ট একটি কথা কিংবা নসিহত হয়তো তার জীবনের মোড় পরিবর্তনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। ওয়াজ মাহফিলগুলোর ধর্মীয় প্রভাবটাকেও খাটো করে দেখা উচিত নয়। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়, ধর্মানুরাগী, ধর্মভীরু-এই যে অভিধাগুলো তাদের সঙ্গে লাগানো হয় এটা কি এমনিতেই হয়ে গেছে। এদেশে এমন অনেক আলেম-অলি-দরবেশ গত হয়েছেন যারা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে ঘুরে লোকদের দীনের পথে, শরীয়তের পথে আনার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। মানুষের কানে কানে পৌঁছে দিয়েছেন ইসলামের অমীয় বার্তা। দাওয়াতি এই মিশন নিয়ে ছুটে গেছেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। বিভিন্ন মাহফিল, সমাবেশ ও সম্মেলনের মাধ্যমেই দাওয়াতি এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আমজনতার কানে দীনের কথাগুলো যত বেশি পৌঁছে দেয়া যাবে, ততই তারা দীনের প্রতি ঝুঁকবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে এ কথা সত্য, আমাদের মাহফিলগুলো এখন আর আগের মতো সেই প্রভাবময় নয়। বাস্তবতা হলো আগের সেই ইখলাস ও লিল্লাহিয়াত আজ আর অবশিষ্ট নেই। পৃথিবীর বাহ্যিক চিত্রটা যেমন আমূল পাল্টে গেছে, তেমনি মানুষের ভেতরের ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতেরও নিদারুণ ভাটা পড়েছে। তা সত্ত্বেও আমাদের মাহফিলগুলোর প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে এগুলো আরো প্রভাবময় ও সুফলদায়ক করার উদ্যোগ সবাইকে নিতে হবে।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।