চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১৩ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগেই পেঁয়াজের দাম ১৩৫ টাকা ছাড়িয়েছে! বিষয়টি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত বলে মনে করি। একটু খেয়াল করুন আলুর ব্যাপারটি। যখন বেশি পরিমাণে আলু উৎপাদিত হয় তখন তা রাস্তায় ফেলে কৃষকরা প্রতিবাদ করে; আবার ঘাটতির সময় আলুর দাম হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। যখন চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদিত হয়, তখন কি আলু রফতানি করা যায় না? চিংড়ি রফতানি করতাম, তা প্রায় শেষ হয়ে গেল চিংড়িতে ওজন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত জেলের কারণে! ওজন বাড়াতে গিয়ে দূষণের শিকার চিংড়ি এখন রফতানি অযোগ্য হওয়ার পথে! পেঁয়াজের এই দাম বৃদ্ধির সময় কেউ কি অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়নি? বেসরকারি চাকুরেদের টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে তারা কর ফাঁকি দিতে না পারে। কিন্তু যারা এক মৌসুমে অনেক টাকা উপার্জন করছে, তাদের কি টিন সার্টিফিকেট আছে? বিষয়টা ভাববার। প্রত্যেক ব্যবসায়ী এবং যারা নির্দিষ্ট টাকার বাইরে হঠাৎ করে বেশি টাকা উপার্জন করছে, তাদের যদি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, পেঁয়াজেরও নয়। কেন নয় তার কারণও খুব ¯পষ্ট। বেসরকারি চাকরিজীবীরা যদি আয়বহির্ভূত টাকা দিয়ে কোনো স¤পদ অর্জন করে, তবে টিন সার্টিফিকেট থাকায় সরকারের কাছে সহজেই একটা হিসাব চলে যাবে এবং সে দুর্নীতি করলে তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে সবার কাছে। কিন্তু যারা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে? অনেকেই একটি ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে অনেক ব্যবসা চালাতে পারে এবং আয়ের পরিমাণ যত দেখাচ্ছে তার চেয়ে বেশি আয়ও করতে পারে এবং এর প্রমাণ দেখা যায় চালের দাম বাড়ার পরের অবস্থায়। মজুদের মধ্যেও দুর্নীতি করে অনেকে চাল আটকে রেখেছে তার সীমার অনেক বাইরেও। এ বিষয়গুলো থেকে বের হয়ে আসার জন্য নতুনভাবে নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে টিন সার্টিফিকেট করা হোক। এতে প্রতি বছর প্রত্যেক মানুষ সরকারের কাছে আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য হবে। একটি নম্বরের সঙ্গে সব আয়ের বিবরণী থাকলে সঠিক হিসাব নেয়াও সহজ হবে বলে মনে করি। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ে তখন জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বাড়তেই পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ে, তখন আগের বছরের উৎপাদনের গড় একটা হিসাব থাকলে মনে হয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। অথবা একটি টার্গেট সেট করে উৎপাদনের ব্যবস্থাও ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।