দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে শঙ্কায় জেলার ২৬ হাজর মানুষ

12

চুয়াডাঙ্গায় বন্ধ টিকাদান কার্যক্রম : রেজিস্ট্রেশন করেও টিকা পাননি ৮৭০৫ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। গত মাসের ২০ মে করোনা টিকার মজুত শেষ হওয়ায় জেলায় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পূর্বে গত ২৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয় করোনা টিকার প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম। আর অনলাইনে করোনা টিকার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করা হয়েছে এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে। এ অবস্থায় প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার ২৬ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ। প্রথম ডোজ পেয়েছেন অথচ দ্বিতীয় ডোজের তারিখ পাওয়ার পরেও টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় টিকা নিতে মোট নিবন্ধন করেছেন ৬৬ জাহার ৫৭৬ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেলার চার উপজেলায় বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৭১ জন। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় জেলায় করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম। ৮ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩১ হাজার ১০৪ জন। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে অপেক্ষায় আছে ২৬ হাজার ৭৬৭ জন। এদিকে, নিবন্ধিত ৮ হাজার ৭০৫ জন দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এদিকে, টিকা নিয়ে আগ্রহী অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি এনজিওতে চাকরি করা শাহানারা বেগম প্রথম দিকে টিকা নিয়ে অনিশ্চিত থাকলেও এখন টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেতে চান। কিন্তু সরকারের টিকা সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্তে তাতে তিনি হতাশ। চুয়াডাঙ্গায় যে পরিমান টিকা এসেছিল তা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তিনি জানান, ‘যেহেতু তাকে প্রতিদিন কাজে বের হতেই হয় – তাই টিকা নেয়াটা তার খুব দরকার তাঁর জন্য। কাজের জন্য আমাকে বাইরে বের হতেই হবে, কাজে আসতেই হবে। তাই টিকা নিতে চাচ্ছিলাম। এখন আমি খুবই হতাশ। এই মহামারির সময় একমাত্র ভরসা ছিল টিকা। সেটা যদি দিতে না পারি তাহলে সাবধান থাকার পরেও সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা করোনা টিকাদান কর্মসূচির আহ্বায়ক ও সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় ৫ হাজার ৮৭১ জন করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে আর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছে ৩১ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে করোনা টিকার মজুদ কমে আসায় এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে প্রথম ডোজ কার্যক্রম শেষ হয়। আর টিকার মজুদ একে বারে হয়ে যাওয়ায় ২০ মে টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম শেষ করা হয়। জেলায় করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন অথচ দ্বিতীয় ডোজ পাননি এমন টিকা গ্রহিতার সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৬৭ জন। যারা করোনার প্রথম ডোজ নিয়েছেন অথচ দ্বিতীয় ডোজ পাননি এ ক্ষেত্রে দুশচিন্তার কিছু নেই। ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দিলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। সুতরাং সরকার লাভের পথেই যাবে। তাহলে টিকা সংগ্রহের বাড়তি এক মাস সময় পাওয়া যাবে। আশা করছি এ মাসেই করোনা টিকার ডোজ এসে যাবে। যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা প্রথম ডোজ টিকা পাবেন। যারা প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।’