দোয়ায় করণীয় ও নিয়ম

394

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি একচ্ছত্র শক্তির অধিকারী। মানুষ হিসেবে তাই আমরা সবকিছু আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে থাকি। এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ, জীবনোপকরণ প্রার্থনা ও বিপদাপদ থেকে রক্ষাসহ সব বিষয়ে মানুষ তাঁরই মুখাপেক্ষী। আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমতাবান। তিনি করুণার আধার। দোয়া একটি ইবাদতও বটে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ, তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে। -সুরা মুমিন : ৬০। দোয়া প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো দোয়া।’ দোয়া মানুষকে যাবতীয় অহংকার থেকে দূরে রাখে। দোয়া-মোনাজাত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত, অবশ্যই এটা আদায় করতে হবে দোয়ার যাবতীয় বিধি-বিধান, শর্তাবলি, নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে। দোয়ার জন্য শর্ত হলো, দোয়া একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছে ও তারই উদ্দেশ্যে নিবেদিত হবে। এছাড়া বিনয় ও একাগ্রতার সঙ্গে যদি দোয়া চাওয়া হয় আল্লাহ তায়ালা কবুলও করে থাকেন। দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত হলো হালাল পন্থায় জীবনযাপন। তাই একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় সব বিষয়ের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা। সেই সঙ্গে জেনে নেয়া কীভাবে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করে থাকেন। মনে রাখতে হবে দোয়া কখনো বৃথা যায় না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি দোয়া করে, যে দোয়াতে কোনো পাপ থাকে না ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় থাকে না, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে তার দোয়া অবশ্যই কবুল করেন। যে দোয়া ব্যক্তি করেছে হুবহু সেভাবে তা কবুল করেন অথবা তার দোয়ার প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন কিংবা এ দোয়ার মাধ্যমে তার ওপর আগত কোনো বিপদ তিনি দূর করে দেন। এ কথা শুনে সাহাবিরা বললেন, আমরা তাহলে অধিক পরিমাণে দোয়া করতে থাকব। রাসুল (সা.) বললেন, তোমরা যত প্রার্থনাই করবে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি কবুল করতে পারেন।-বুখারি।