দেশে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড, শতাধিক মানুষের প্রাণহানি!

16

চুয়াডাঙ্গায় আরও ৩, মেহেরপুরে ৫ জনসহ সারা দেশে ৩৬৯৮ জন করোনা আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে পর পর তিনদিন করোনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি এই করোনাভাইরাসে আরও ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে এটি নতুন রেকর্ড। এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার ১০১ জন করে মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৮৫ জনে।
গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩ হাজার ৬৯৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ জনে। গতকাল দেশে নতুন সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ১২১ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৪০৪টি। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৯.০৬ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত ১৩.৯১ শতাংশ। মৃত্যুরহার ১.৪৪ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮৫.৫৩ শতাংশ। করোনার সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী গত বুধবার থেকে সারাদেশে আটদিন ব্যাপী কঠোর লকডাউন পালিত হচ্ছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে।
কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২২ জনে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৮ জন, দামুড়হুদায় ৩১৪ জন ও জীবননগরে ১৯২ জন। গতকাল সদর উপজেলা থেকে নতুন ১ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৬৮ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৫ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন।
জানা যায়, গত শনিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল সিভিল সার্জন অফিসে উক্ত ২৩টি নমুনার ফলাফলই সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে তিনটি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে, বাকি ২০টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য নতুন ২৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৪২টি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৪২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮ হাজার ৮১১টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮২২টি ও নেগেটিভ ৬ হাজার ৯৬০টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১১৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রত্যেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১০৪ জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ৫ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। গতকাল রোববার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাব থেকে আসা ২২টি ফলাফলের মধ্যে ৫ জনের ফলাফল করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মেহেরপুর সদরের ২ জন ও গাংনী উপজেলার ৩ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭৫৯ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে, নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখাসহ মাস্ক ব্যাবহার, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং হাঁচি-কাঁশির শিষ্টাচার মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন।