চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে ফিরে আত্মগোপনে ডা. মুরাদ!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১৪, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কানাডায় আশ্রয় না পেয়ে দেশে ফিরে আসা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান আত্মগোপনে আছেন। বিমানবন্দর থেকে চুপিসারে বের হওয়ার পর আর তার দেখা মিলছে না। তিনি কোথায় অবস্থান নিয়েছেন তাও স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, মুরাদ হাসান জটিলতা এড়াতে রোববার রাতেই তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যান। গতকাল তার ধানমন্ডির বাসায় গেলে জানা যায় যে, তিনি বিদেশ থেকে দেশে এসে নিজ বাসায় ফিরেননি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী ও কেয়ারটেকারসহ ওই বাসার লোকজন তার কোনো খোঁজ দিতে পারেননি। গতকাল তার অবস্থান কোথায় ছিল তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে উত্তরায় এক আত্মীয়ের বাসায় যান। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে তিনি চট্টগ্রামের হালিশহরের উদ্দেশে রওনা হন। ওই এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালেও তিনি চট্টগ্রামের হালিশহরে যেতেন। ধানমন্ডির বাসার নিরাপত্তারক্ষী সুমন জানান, স্যার (মুরাদ হাসান) বাসায় নেই। তিনি কেথায় আছেন প্রশ্ন করা হলে জানান, স্যার বিদেশ থেকে আসার পর বাসায় আর আসেননি। তিনি কোথায় আছেন তিনি তা জানেন না।
বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশ ছেড়েছিলেন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় ও দুবাইয়ে আশ্রয় না পাওয়ায় তিনি আরও বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। দেশে ফিরে আসাটা তার জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ইতিমধ্যে বেশকিছু স্থানে তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। যদিও গতকাল দু’টি মামলার আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। তবে কোথাও মামলা গ্রহণ করা হলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। নতুন করে আর যাতে জটিলতা তৈরি না হয় এজন্য নিজেকে আড়ালেই রাখতে চাইছেন ডা. মুরাদ।
ফেসবুক লাইভ টকশোতে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান এবং চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ধর্ষণের হুমকি প্রদানের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত সপ্তাহে (৭ই ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ডা. মুরাদ হাসান। এরপর গত বৃহস্পতিবার দেশ ছেড়ে কানাডার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। গত রোববার সন্ধ্যায় দুবাই বিমানবন্দর থেকে রোববার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৬ ফ্লাইটে দেশে ফিরেন তিনি। সেটি শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের নির্ধারিত সময় ছিল বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট। কানাডায় প্রবেশের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দুবাইয়ে ফিরে আসেন ডা. মুরাদ। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সর্বশেষ দেশের ৪ টি জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
মুরাদের বিরুদ্ধে ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা মামলা খারিজ:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বিকালে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত মামলা গ্রহণ করার মতো ‘উপাদান না থাকায়’ খারিজের আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার লেন, মামলাটি আমলে নেয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল। কিন্তু বিচারক মামলাটি গ্রহণ করেননি। ফেসবুক লাইভে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিয়া পরিবার এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, নারী বিদ্বেষী এবং যেকোনো নারীর জন্য মর্যাদাহানিকর ভাষা’ ব্যবহার করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারার অপরাধ করেছেন বলে এই মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে গতকাল সকালে বিচারক মামলার বাদী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে মামলাটি গ্রহণের মতো কোনো উপাদান না থাকায় তা খারিজ করে দেন আদালত। তার আগে গত রোববার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের সেরেস্তায় এ মামলার আবেদন করা হয়। আবেদনে মুরাদ ছাড়াও মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ (নাহিদ রেইন্স) কে আসামি করা হয়। পরে ওমর ফারুক ফারুকীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্যে এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ, অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্যের জেরে এ মামলার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, মুরাদ হাসান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ও নাহিদ ডিজিটাল মিডিয়া উপস্থাপক। নাহিদ গত ১লা ডিসেম্বর মুরাদের সাক্ষাৎকার নেন, যা পরে মুরাদ হাসান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারে মুরাদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিয়া পরিবার এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, নারী বিদ্বেষী এবং যেকোনো নারীর জন্য মর্যদাহানিকর ভাষা ব্যবহার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ফলে সমাজে তথা রাষ্ট্রের সব মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।