দেবী’র বোধনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গা উৎসব শুরু ঢাকে পড়বে কাঠি, বাজবে শঙ্খ, ঘণ্টা আর কাঁসর, উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারপাশ

652

03নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকে পড়বে কাঠি। বাজবে শঙ্খ। ঘণ্টা আর কাঁসর। উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারপাশ। উৎসবের সাজে মন্ডপে মন্ডপে নামবে ভক্তদের ঢল। ধূপ-আগরবাতির গন্ধ মোহিত করে তুলবে পূজার আঙিনা। বর্ণিল সাজসজ্জা, হইচই আর মহা ধুমধামের যেন শেষ নেই। কারণ আজ সকালেই ষষ্ঠী পুজোর (বোধনের) মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দূর্গা উৎসব। পাঁচ দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন সাজসাজ রব। কেনাকাটার পর্ব শেষ। এখন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গোটা বাঙালী সামিল হবে এ উৎসব উদযাপনে। রাত পোহালেই অর্থাৎ শনিবার সকাল থেকেই মহাসপ্তমী। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮৭টি মন্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সায়ংকালের বোধনের মধ্য দিয়ে দূর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গাকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পুজোমন্ডপে ষষ্ঠী পুজার আয়োজন করা হয়েছে। আজ দেবী দূর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গাপুজোর মূল আনুষ্ঠানিকতা। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শ্রী শ্রীdurga সার্বজর্নীন দূর্গা মন্দিরের সাধারন সম্পাদক কিংকর কুমার দে বলেন, দুর্গাপুজো শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের আর ৪টি উৎসবের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দূর্গাৎসব একটি বৃহৎ উৎসব। সেখানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের আগমন ঘটে। তিনি আরও বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সকলের” ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দূর্গাৎসবের প্রস্তুতি। এবার দেবীর আগমন ঘটছে (ঘোড়াই)। বাঙালীর দুয়ারে কড়া নাড়তে শুরু করে শারদীয় দূর্গাৎসব। হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরদের প্রাণে এখন দূর্গাৎসবের আনন্দ শিহরণ। বাজনার তালে তালে বাজবে- “ঢাকের তালে কোমর দোলে/খুশিতে নাচে মন/আজ বাজা কাঁসর/জমা আসর/থাকবে ‘মা’ আর কতক্ষণ। তরসয়না আর যে আমার, ঢাকে কাঠি পড়বে আবার/আনব তোকে শাঁখ বাজিয়ে, বোধন হবে উলু দিয়ে/ঘুচিয়ে দে ‘মা’ আঁধার-কালো, সারাবছর দেখব আলো”-পূজোর আয়োজনে এই গানেরও কদর বেশ। ‘হাওয়ায় এখন পুজোর ঘ্রাণ’-এই গানের ভক্তেরও কমতি নেই। আজ শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও মহাষষ্ঠী বিহিত পুজো ও সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, শনিবার (৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী বিহিত পুজো, দেবীর নব পত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পুজো। রবিবার (৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী, কুমারী ও সন্ধিপুজো, সোমবার (১০ অক্টোবর) মহানবমী, মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) ও বিজয়া দশমী বিহিত পুজোর মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে।
আমাদের তিতুদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো সারদীয় দূর্গা পুজা তাই বাংলদেশের প্রত্যেক অঞ্চলের মত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহের ১২টি গ্রামে জাকজমক ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পুজার অনুষ্ঠান। কয়েকদিন যাবত প্রতিমাগড়ার কারিগররা হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রথমে প্রতিমা গড়ার কাজ এবং পরে তাতে বিভিন্ন ধরনের রঙ লাগিয়ে খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে পিঁড়িতে তুলেছে প্রতিমাগুলো। এলাকার সব  হিন্দু পাড়াতে যেন আনন্দের জোয়ার উপচে পড়ছে চারিদিকে ঢাক ও কাশার শব্দে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দূর্গাউৎসব। প্রতিবছরের মত এবারও তিতুদহ ইউপির সবচেয়ে বেশি পূজা মন্ডপ রয়েছে গড়াইটুপিতে এখানে একইগ্রামে তিনটি স্থানের মন্ডবে প্রতিমা তৈরি করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সারদীয় দূর্গা পুজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  সবগুলো পূজা মন্ডপকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ কড়া নজরদারী করবে।  প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে সরকারী সহযোগীতা হিসেবে প্রতিটি পূজা মন্ডপে আধা মেট্রিকটন করে চাউল দেওয়া হয়েছে।  এর আগে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে আইন শৃংখলা, বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।  তিতুদহের পূজা কমিটির সদস্যরা জানান পুজা শুরু হয়েছে আমাদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেবার জন্য সব সময় কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন।  প্রত্যেকটি পুজা মন্ডপে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে আনসার পুলিশসহ র‌্যাবের টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।